Posted in উমার মিডিয়া, উসামা মিডিয়া, তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান

নতুন বাংলা সাবটাইটেল ভিডিও || উত্তর ওয়াজিরিস্তানে পাকিস্তানের মুরতাদ সেনাবাহিনীর উপর পরিচালিত হামলাসমূহের কিছু ঝলক ও তেহরিকে তালেবান পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানের দায়িত্বশীল কমান্ডার আখতার মুহাম্মাদ খলীল মানসুর হাফিজাহুল্লাহর এর পক্ষ থেকে মুজাহিদিন ও মুসলিম উম্মাহ, বিশেষ করে উলামায়ে কেরামের প্রতি পয়গাম

আলহামদু লিল্লাহ উসামা মিডিয়া কর্তৃক রিলিজ হয়েছে।

তেহরিকে তালেবান পাকিস্তানের উমার মিডিয়া পরিবেশিত

একটি ভিডিও এর বাংলা সাবটাইটেল

শিরোনাম

উত্তর ওয়াজিরিস্তানে পাকিস্তানের মুরতাদ সেনাবাহিনীর উপর পরিচালিত হামলাসমূহের কিছু ঝলক

তেহরিকে তালেবান পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানের দায়িত্বশীল
কমান্ডার আখতার মুহাম্মাদ খলীল মানসুর হাফিজাহুল্লাহর এর পক্ষ থেকে
মুজাহিদিন ও মুসলিম উম্মাহ, বিশেষ করে উলামায়ে কেরামের প্রতি পয়গাম

HD- 471MB
https://archive.org/details/ttp_id_ul_adhaHD

http://pc.cd/w9kotalK
http://pc.cd/fwkotalK
http://pc.cd/lCkotalK

http://www.mediafire.com/download/16l829caqeyr771/ttp_id_ul_adhaHD.mp4
http://www.mediafire.com/file/37mq0rflirmo2sf/ttp_id_ul_adhaHD.mp4

MQ- 147MB
https://archive.org/details/ttp_id_ul_adhaMQ
 http://pc.cd/X2kotalK

low (360)- 57MB

https://archive.org/details/Ttp_id_ul_adhaLOW360

http://pc.cd/LskotalK

 
low-39MB
https://archive.org/details/ttp_id_ul_adha_low
http://pc.cd/kDkotalK

ডাউনলোড লিঙ্ক না পেলে আর্কাইভে লগ-ইন করুন। ইনশা’আল্লাহ ডাউনলোড করতে পারবেন। আর্কাইভ আইডি না থাকলে এই আই ডি/পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন –

লগ ইন আই ডি – kbnszsys@grr.la
পাসওয়ার্ড – asdf1234

exrj4w

https://justpaste.it/yrcb

https://jpst.it/NPC8

Posted in ইমারাতে ইসলামী আফগানিস্তান, উসামা মিডিয়া

ইমারাতে ইসলামী আফগানিস্তানের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধের বাংলা অনুবাদ “কে আফগানিস্তানে বেসামরিক জনগণকে হত্যা করছে?”

ইমারাতে ইসলামী আফগানিস্তানের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত

একটি প্রবন্ধের বাংলা অনুবাদ

কে আফগানিস্তানে বেসামরিক জনগণকে

হত্যা করছে?

সকল প্রশংসা সেই আল্লাহ্ সুবহান ওয়া তাআলার যিনি আমাদের ঈমানের মত নেয়ামত দিয়ে ধন্য করেছেন এবং আমাদের জন্য, সর্বোত্তম কিতাব, সর্বোচ্চ সম্মানিত রাসূল এবং সর্বোত্তম শরীয়াত বা বিধিবিধান প্রেরণ করেছেন! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি এক এবং তাঁর কোন শরীক নেই। আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।  তাঁর এবং তাঁর পবিত্র পরিবারের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, আরো বর্ষিত হোক পবিত্র ও উত্তম বৈশিষ্ট্যের অধিকারী সাহাবা আজমাঈন রাঃ এবং তাবিঈন ও তাবে তাবিঈনদের উপর। আম্মাবাদ

তালিবান আফগানিস্তানের জনগন থেকে হওয়া যারা গত ১৫ বছর জাবত দখলদারদের সাথে লড়াই করে যাচ্ছে। তালিবান আফগানিস্তানের সাধারণ জনগণেরই অংশ যা তাদের থেকে আলাদা করা যায় না। প্রত্যেক প্রদেশ, জেলা, ঘর এবং আফগানিস্তানের প্রত্যেক প্রান্ত থেকে আফগানিস্তানের সাধারণ মুসলমানের মুখ থেকে তালিবানের পক্ষে সমর্থনের প্রতিধ্বনি জেগে উঠে। আফগানিস্তানের সাধারণ জনগণের থেকে সমর্থনের কারন এই যে,  তালিবান ইসলামের হেফাজত, আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের হেফাজত এবং মুসলমানদের স্বার্থে কাজ করাকে নিজেদের দায়িত্ব মনে করে।

আফগানিস্তানের প্রায় সবাই, শিক্ষিত ও অশিক্ষিত জানে যে, আফগানিস্তানে কোন স্বাধীন সংস্থা নেই, যারা বেসামরিক হতাহতের উপর নজর রাখছে। যতবার দখলদাররা বিশেষ করে আমেরিকানরা মানবতা বিরোধী কোন অপরাধ করে এবং কোন মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, কর্তৃপক্ষ নির্লজ্জ ভাবে তাদের অপরাধ ঢেকে ফেলে এবং মিডিয়াও তা প্রচার করা থেকে বিরত থাকে। সমস্যা হল আমেরিকার দ্বারা করা যুদ্ধাপরাধ শুধু সরকারই ঢেকে ফেলে না বরং মিডিয়াও- যা দখলদার দ্বারা পরিচালিত- সেসব অপরাধগুলোকে তালিবানের উপর চাপিয়ে দিয়ে তার জন্য তালিবানকেই দায়ি করে। মিডিয়া তাদের পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাব একাধিকবার প্রমান করেছে তবুও তারা নিজেদেরকে বাকস্বাধীনতার চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অবিহিত করে। সরকার আফগানিস্তানের সাধারণ মুসল্মানের সাথে তালিবানের সম্পরক ছিন্ন করে নিদারুনভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি মিডিয়া ও সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর দ্বারা। দখলদাররা বহুবার জানাযা, বিবাহ, হাসপাতাল, স্কুল ও সামাজিক সমাবেশে বোমা মেরে পুরো গ্রাম বা পরিবারকে গণহত্যা করেছে।

দখলদার দ্বারাকৃত কিছু যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যা নিম্নে উল্লেখ করা হচ্ছে ঃ 

১- ২০১৪ সালে হেল্মদ প্রদেশের সিঙ্গিন জেলায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আকাশপথে বোমা মেরে আমেরিকান রা ৩৫ জন বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে ও ৪৫ জনের বেশিকে আহত করেছে।

২- ৩০ এর আগস্ট ২০১৫ তে ওয়ারদাক প্রদেশের সায়দাবাদ জেলায়, কথিত এ এন এ অথবা আফগান জাতিয় সেনা মর্টার ও কামান হামলায় একই পরিবারের ১৩ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে।

৩- ২০১৫ এর সেপ্টেম্বর মাসে লগার প্রদেশের মুহাম্মাদ আঘা জেলায় তালিবান সাফাই অপেরাশনের নামে  সরকারী বাহিনী বহু নারী ও শিশুকে নির্বিচারে হত্যা ও গণহত্যা করেছে।

৪- ২০১৫ এ ডাক্তারস উইতাউত বরদারস এর দ্বারা পরিচালিত একটি হাস্পাতালে আমেরিকানরা বোমা হামলা করে যাতে বহু ডাক্তার ও নিরীহ রোগী মারা যায়।

৫- ২০১৬ এর এ বছরেই বাঘিস প্রাদেশিক কেন্দ্রে ২ জন নিরীহ মানুষকে মেরে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

৬- ১৩ই জুন ২০১৬ এ ফারাহ প্রদেশে একটি জানাযার মিছিলে বোমা মারে যেখানে বহু নাগরিককে হত্যা করা হয়।

৭- এ মাসেই যাবুল প্রদেশে পুলিশ যারা সারাদেশে নাগরিক হত্তার জন্য পরিচিত বেশ কয়েক জন নিরীহ মানুষকে গুলি করে হত্যা করে।

৮- এই বছর কান্দাহার প্রদেশের মাইওান্দ জেলায় একটি নির্বিচার রাত্রি অভিজানে অকারনেই ৬ জন নাগরিক মারা যায় ও অনেকে আহত হয়।

৯- বাঘলানের উত্তর প্রদেশে স্থানীয় পুলিশ আকাধিক নাগরিক্ কে চলতি মাসে হত্যা করেছে।

উপরের  উদাহরনগুলো দখলদারদের নিয়ন্ত্রিত পুতুল মিডিয়াও উল্লেখ করেছে কিন্তু এর বাইরেও আরও অনেক ঘটনা আছে যা কয়েকটি লাইনে বোঝানো সম্ভব না। ইউ ঈন এ এম এ কিছুদিন আগে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে  যাতে তালেবানকে বেসামরিক হতাহতের মূল কারন হিসেবে উল্লেখ করেছে,  যা একটি সুস্পষ্ট মিথ্যা কথা এবং এর ভিত্তি হছে কিছু পক্ষপাতী খবর, যা তাদের নিজস্ব রীতিরও পরিপন্থি।

উত্তর প্রদেশের জনগন প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট দুস্তমের গত কয়েক মাসের সামরিক গণহত্যার নৃশংসতার প্রতিবাদ করেছে। মিডিয়ার দেওয়া নাম তালিবান বিরোধী অভিযানের নামে গবাদি পশুগুলোকেও সে ছাড় দেয় নি।

সরকার ও দখলদারেরা তাদের ব্যর্থতা ও পরাজয়ের নৈরাশ্য নিরীহ জনগণের উপর ঝারছে। প্রতিদিন সরকারী বাহিনী যুদ্ধাপরাধ করে চলছে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে কোন সমন্বয় নেই ও নিজেদের বাহিনীগুলকে পর্যবেক্ষণ করতেও ব্যর্থ। মিডিয়া তাদের এইসব অপরাধের বিষয়েও উদাসীন। এন জি ও ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত সংস্থার প্রতিবেদন গুলিও পক্ষপাতদুষ্ট। সরকারী বাহিনী জনগন কে হত্যা ও নিপীড়ন শত শত বার করছে যা দেশের কোথাও ঠিক মত নথিভুক্ত করা হয় না।

DOC 460 KB

https://archive.org/details/WhoIsKillingCiviliansBangla

http://up.top4top.net/downloadf-2591rfm1-docx.html

 

PDF 294 KB

https://archive.org/details/WhoIsKillingCiviliansBangla_201609

http://up.top4top.net/downloadf-25934sf2-pdf.html

exrj4w

https://justpaste.it/yen6

https://jpst.it/Nr2W

Posted in আনসার আল ইসলাম, আল কায়েদা উপমহাদেশ, উসামা মিডিয়া, Uncategorized

একটি সমসাময়িক তথ্যবহুল আর্টিকেল সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ: আসলেই এক নাকি ভিন্ন? – মুজাহিদ আবু ইয়াহইয়া হাফিজাহুল্লাহ

একটি সমসাময়িক তথ্যবহুল আর্টিকেল

সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ: আসলেই এক নাকি ভিন্ন?

লেখকঃ

মুজাহিদ আবু ইয়াহইয়া হাফিজাহুল্লাহ

সকল প্রশংসা সেই আল্লাহ্ সুবহান ওয়া তাআলার যিনি আমাদের ঈমানের মত নেয়ামত দিয়ে ধন্য করেছেন এবং আমাদের জন্য, সর্বোত্তম কিতাব, সর্বোচ্চ সম্মানিত রাসূল এবং সর্বোত্তম শরীয়াত বা বিধিবিধান প্রেরণ করেছেন! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি এক এবং তাঁর কোন শরীক নেই। আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।  তাঁর এবং তাঁর পবিত্র পরিবারের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, আরো বর্ষিত হোক পবিত্র ও উত্তম বৈশিষ্ট্যের অধিকারী সাহাবা আজমাঈন রাঃ এবং তাবিঈন ও তাবে তাবিঈনদের উপর। আম্মাবাদ

সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ আসলেই এক নাকি ভিন্ন?

আমাদের অনেকেরই এই ভুল ধারণা রয়েছে যে, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ এক ও অভিন্ন! আর কুফুরি মিডিয়াগুলো এই অপ-প্রচার এত অধিক ছড়িয়েছে যে আমাদের মস্তিষ্কে এটি পুরোপুরিভাবে প্রবেশ করেছে। তো এই বিষয়ে আজ কিছু কথা বলছি যা জ্ঞানীদের জন্য চিন্তার দরজাকে উন্মোচন করবে বলে আশা করছি।

প্রথমেই আমাদেরকে এ দু’টো শব্দের আভিধানিক অর্থ জানতে হবে এবং এর সাথে সাথে পারিভাষিক অর্থও। (যদিও এর ভুল অর্থই বর্তমানে ব্যপক প্রচলিত।) সন্ত্রাস (Terror)- কোন উদ্দেশ্যে মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা। সন্ত্রাসবাদ (Terrorism)-রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের জন্য হত্যাকান্ড সংঘটনের পক্ষপাতী। সন্ত্রাসী (Terrorist)- যে বা যারা কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য শঙ্কা বা ভীতির সৃষ্টি করে। (দেখুন-বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান)

জঙ্গ (Battle) – যুদ্ধ, লড়াই। জঙ্গি (Military) – রণতরী, যোদ্ধা, বীরপুরুষ। জঙ্গিবাদ-( Militarism) রণকৌশল অবলম্বন করা, সুদৃঢ় সামরিক ব্যবস্থা বা আয়োজন। (দেখুন-বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান)

একটা কথা মনে পড়ে গেল, যা মনে হলে আমার অনেক হাসি পায় (দু:খও পাই)। আর তা হলো আমাদের (শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত) অধিকাংশই ‘জঙ্গি’ শব্দটিকে ভুল বশত: ‘জংলী’ (যারা জঙ্গলে বসবাস করে) তাদের মনে করে। যার কারণে সহজেই জংলীদের ভুল কর্মকান্ড তাদের মস্তিষ্কে ঘুরপাক খায়। আর এ ভুলটিই কুফুরি মিডিয়ার পক্ষ হয়ে কাজ করছে। তারা বুঝাতে চায় জঙ্গিরাও জংলীদের মতই উগ্র ও অন্যায় কাজ করে।

এবার আসুন এর পারিভাষিক অর্থ জেনে নেই। সন্ত্রাস বলা হয় রাজনৈতিক অবৈধ উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য মানুষের মনে এমন ভয় ভীতি বা হত্যাকান্ড সৃষ্টি করা যার কারণে জনগণের সার্বিক উন্নতি (Developing) ও চলাফেরায় মারাত্মক ব্যঘাত সৃষ্টি হয়। অপরদিকে, জঙ্গ বলা হয় ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধ (Freedom Fight) বা লড়াই। আর যে বা যারা সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করে তাদেরকেই বলা হয় যোদ্ধা বা জঙ্গি। অতএব স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, ন্যায়ের জন্য ব্যবহৃত এই শব্দটিকে বর্তমানে ভুল দৃষ্টিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। যার কারণে অনেক সঠিক বিষয়গুলোতেও আমাদের মনে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে। সন্ত্রাসী কখনোই জঙ্গির (যোদ্ধার) সমতুল্য হতে পারে না। সন্ত্রাসীদের জঙ্গি বললে তাদের মূল্যকে যেন আমরাই বৃদ্ধি করছি। আর জঙ্গিদেরকে সন্ত্রাসী বললে বা মনে করলে তাদের প্রকৃত মূল্যকে আমরাই নষ্ট করছি।

আজ যারা আফগানের মুসলিমদের উপর হামলা চালায় তারাই সন্ত্রাসী, যারা সিরিয়ার নিষ্পাপ মুসলিম শিশুদের রক্ত ঝরায় তারাই সন্ত্রাসী, যারা অন্যায়ভাবে মায়ানমারের মুসলিমদের উপর আক্রমন চালিয়ে তাদের উচ্ছেদ ও নিধন করে চলছে তারাই সন্ত্রাসী, ফিলিস্তিন কিংবা কাশ্মীরে আজ যারা মুসলিমদের স্বাধীনতার সংগ্রামকে স্তব্ধ করে রাখতে চায় তারাই সন্ত্রাসী। আর যারা এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে প্রতিহত করার চেষ্টা করে তারা জঙ্গি, তবে সন্ত্রাসী নয়। আর আজ আমরা কুফুরি মিডিয়ার এ অপ-প্রচারের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে এ জঙ্গি মুজাহিদদেরকে সন্ত্রাসী মনে করছি। জঙ্গি বললেই সন্ত্রাসী বুঝতে আমাদের কোন প্রকার ভুল হয় না।

কেন এমন করা হচ্ছে? এর কারণ হলো মুসলিমদের মধ্যে বিভক্ত সৃষ্টি করা এবং নিজেদের একে অপরের মধ্যে অনাস্থার সৃষ্টি করা। তাই আমরা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ কে এক মনে করব না। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে সন্ত্রাস-ই  মনে  করব, একে জঙ্গিবাদ মনে করব না। আর পবিত্র শব্দ জঙ্গিবাদকে অবৈধ (Illegal) সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে একত্রিত করব না। এখন বলতে পারেন যে তাহলে জঙ্গিবাদ বলতে যা বোঝানো হয় তাকে আমরা কি বলব? আমি বলব কুফুরি মিডিয়া জঙ্গিবাদ বলতে যদি কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে বোঝায় তাহলে আমরা তাকে জঙ্গিবাদ না বলে সন্ত্রাসবাদ বলব। আর যদি কোন সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামিক কোন কর্মকান্ডকে বোঝায় তবে তাকে ভালো মনেই জঙ্গিবাদ মনে করব। অর্থাত জঙ্গিবাদকে কখনোই খারাপ মনে করা যাবে না বরং অরাজকতামূলক কর্মকান্ডকে সন্ত্রাসবাদ মনে করতে হবে। আশা করি যাদের নূন্যতম জ্ঞান রয়েছে তারা উপরোক্ত বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছেন।

অতএব একথা দৃঢ়ভাবে বলা যায় যে, জঙ্গিবাদ এটা জনগণের বিপক্ষে নয় বরং পক্ষে। অথচ এ শব্দকে আমরা জনগণের বিপক্ষে ব্যবহার করছি যা আমাদের অজ্ঞতার পরিচয় বহন করে। কোন সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন ব্যক্তি এর সঠিক অর্থ জানার পর জঙ্গিবাদকে খারাপ মনে করতে পারে না। অনেকে আবার জঙ্গিবাদ বলতে অবৈধ হামলাকে বুঝে থাকে, যা ঠিক নয়। অন্যায় ও অবৈধ হামলাকে জঙ্গিবাদ বলা যায় না বরং সত্য ও ন্যায়ের জন্য অপরাধ দমন মূলক কর্ম কান্ডই হল জঙ্গিবাদ। যেমন কিছুদিন পূর্বে আমাদের দেশে এক এক করে কয়েকজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হল যারা প্রিয় রাসূল (সা:) কে অবমাননাকারী নাস্তিক ছিল। এই হত্যাকান্ডকে আমরা জঙ্গিবাদ বলব তবে ভাল মনে। আর কুত্তালীগ সহ অন্যান্য দলগুলো পরস্পর কিংবা জনসাধারণের উপর যে হত্যাকান্ড, চাঁদাবাজী, হুমকি ইত্যাদি করে সমাজ, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের মধ্যে শঙ্কা বা ভীতি সৃষ্টি করে রেখেছে তাকেই সন্ত্রাসবাদ বলে, জঙ্গিবাদ নয়।

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা:) সর্বপ্রথম যে যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন তাকে ‘জঙ্গে বদর’ (বদরের যুদ্ধ) বলা হয়। এ যুদ্ধে ৩১৩ জন অস্ত্রহীন মুসলিম জঙ্গি অংশ গ্রহন করেছেন। আর কাফেররা ছিল সশস্ত্র প্রায় হাজার। এখন জঙ্গি বলতে যদি আপনি সন্ত্রাসীকে বুঝে থাকেন তাহলে দেখুন যে আপনার বুঝটা কত মারাত্মক ভুল ছিল যে, এখানে তাহলে (নাউযুবিল্লাহ) প্রিয় নবীকে সন্ত্রাসী বলতে হবে। জঙ্গে উহুদ, জঙ্গে খন্দক কিংবা জঙ্গে তাবুক এগুলো মুসলিমদের শুধু ইতিহাস নয় বরং ঐতিহ্যও। তাই জঙ্গি বা যোদ্ধা হওয়া কিংবা জঙ্গিবাদকে গ্রহন করা ইবাদত এবং প্রিয় রাসূল (সা:) এর আদর্শ। যেমন এর বিপরীতে সন্ত্রাসী হওয়া বা সন্ত্রাসবাদকে গ্রহন করা বা প্রশ্রয় দেওয়া অন্যায় ও গুনাহের কাজ। তাই আসুন আমরা এই সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ শব্দ দু’টোর সঠিক ব্যবহার করি এবং এর উপর সঠিক আমল করি। অর্থাত সন্ত্রাসবাদকে রুখতে জঙ্গিবাদকে গ্রহন করি। (আল্লাহ-ই তৌফিক দাতা)

 

এবার সামনে চল

এসেছি মোরা একতাবদ্ধ নওজোয়ানের দল

বন্ধুর পথ পেরিয়ে আরও সাগরের মহাজল

কতশত বাঁধা ঠেলে এসেছি, এবার সামনে চল।

ভাঙবই আজ অত্যাচারীর অবৈধ শাসনকল

দেখবনা আর মরীচিকা, থাকবেনা আর ছল

রুখতে আমায় পারবে নাকো হাজারো প্রতিবল

চাস যদি মোর সহায় হতে, এবার সামনে চল।

লড়াইয়ে আজ ব্যয় করব আছে যত সম্বল

মৌন হয়ে থাকবনা আর টুটব কালো ছোবল

জাহির তোদের করতেই হবে পূর্বসূরীর বল

বেরিয়েছি আজ মুক্তির পথে হয়েছি উচ্ছৃঙ্খল

পিছন দিকে তাকাসনে আর, এবার সামনে চল।

সমীকরণে মিলাতে হবে অঙ্ক রাশির ফল

অতিমাত্রায় রণযাত্রায় আঘাত হান ডবল

আক্রমণের তুলবই ঝড় এড়িয়ে শত্রু যুগল,

জয় হবে আজ হয় যদি তা দূর্ভেদ্য জঙ্গল,

লোকালয়ও পড়বে না বাদ সমগ্র মন্ডল,

চাস যদি তা করতে অধীন, এবার সামনে চল।

চিনির বলদ থাকবি কিআর? নাইকিরে আকল?

আর কত কাল রইবি পড়ে জড়িয়ে কম্বল

আর কতদিন চাখবি তোরা কুফুরিতন্ত্রের ফল

ঈমানের সাথে মিশাবি কি তোরা অসত্য আর খল?

আমজনতা মরবে কেন খেয়ে মাকাল ফল?

বীরের জাতি থাকবে কেন অসার অচল?

এই নব দল! থাকিসনে অচল, এবার সামনে চল।

নিখাদ ছেড়ে রইবি পড়ে? চুমবি কি নকল?

ষড়রিপুর তাড়নাতে থাকবি কি দোষল?

গুলবাজ আর হসনে তোরা একটু হ সরল

তোরাই কেবল করবি বিমল কৃত্রিম ও আসল

মুরতাদরা বলবে তোদের এরা তো বিরল

বেরিয়ে আয় পেরিয়ে আয় আধার-আজল

দুর্বিষহে যাচ্ছে ছেয়ে সমগ্র অঞ্চল

বিষাক্তময়, নেইকো সময়, এবার সামনে চল।

রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্ব হবে, তপ্ত হবে দল

মোদের দেখে লজ্জা পাবে জ্বলন্ত অনল

ভীরুরা সব আসবে কাছে পেয়ে আশ্রয়স্থল

অজস্র মোদের সংখ্যা হবে, স্রোতের মত চল

সংখ্যাগুরু? সংখ্যালঘু? শংকা কোথায় বল?

মোরাই হব এই মেদিনীর দূর্বার দাবানল

চলব মোরা বলব মোরা থাকনো যে অটল

আল্লাহ যদি থাকেন সহায়, রুখবে কে এই ঢল

তুমুল জোরে, রৌদ্রে পুড়ে, এবার সামনে চল।

DOC 463 KB

https://archive.org/download/jongibad_201609/jongibad.docx 

http://up.top4top.net/downloadf-259ep3e1-docx.html

 

PDF 293 KB

https://archive.org/download/jongibad/jongibad.pdf

http://up.top4top.net/downloadf-2597vyy2-pdf.html

exrj4w

https://justpaste.it/yeml

https://jpst.it/NqYU

Posted in আনসার আল ইসলাম, আল কায়েদা উপমহাদেশ, উসামা মিডিয়া

আল কায়েদার বাংলাদেশের মুজাহিদদের কণ্ঠে একটি অনুপম উর্দু জিহাদি নাশিদ (বাংলা সাবটাইটেলসহ) “আগায়া হ্যাঁয় আগায়া হ্যাঁয় আগায়া বাররে সগির ম্যায় কায়েদা আগায়া”

 উসামা মিডিয়ার পরিবেশিত 

আল কায়েদার বাংলাদেশের মুজাহিদদের কণ্ঠে

একটি অনুপম উর্দু জিহাদি নাশিদ

(বাংলা সাবটাইটেলসহ)

“আগায়া হ্যাঁয় আগায়া হ্যাঁয় আগায়া

বাররে সগির ম্যায় কায়েদা আগায়া”

(এসে পড়েছে! এসে পড়েছে! এসে পড়েছে!

উপমহাদেশে আল কায়েদা এসে পড়েছে!)

কথাঃ

আবু আব্দুল্লাহ

(আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন। আমিন।)

সুরঃ

আব্দুল্লাহ আইমান ও আরও অনেকে

(আল্লাহ তাঁদের হেফাজত করুন। আমিন)

 

 (২৬৪ এমবি)

http://pc.cd/THoctalK

(৮৬ এমবি)

http://pc.cd/fzoctalK

exrj4w

https://justpaste.it/y5xc

https://jpst.it/N959

Posted in উসামা মিডিয়া

জিহাদ-জঙ্গিবাদ: অপব্যাখ্যা ও বাস্তবতা – মুজাহিদ আবু ইয়াহইয়া হাফিজাহুল্লাহ

একটি যুগান্তকারী প্রবন্ধ

জিহাদ-জঙ্গিবাদ: অপব্যাখ্যা ও বাস্তবতা

– মুজাহিদ আবু ইয়াহইয়া হাফিজাহুল্লাহ

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বরং গোটা মুসলিমবিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত যে ইস্যু, তা হল- সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ। অবশ্য সবদেশের পরিভাষা এক নয়। পশ্চিমা দেশগুলোতে বলে- ‘টেররিজম’। আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে এটাকে বলে- ‘ইরহাব’। পাক-ভারতে এ ইস্যু— দ্যাহশাত গারদী, আতংবাদ, ইন্তেহাপছন্দী, মানসুবাবন্দী ইত্যাদি শব্দে পরিচিত ও প্রচলিত। আমাদের দেশে এর অবশ্য ভিন্ন আরো কিছু নাম আছে। এই যেমন— চরমপন্থা, ধর্মান্ধতাবাদ, উগ্র ধর্মান্ধতাবাদ, মৌলবাদ, উগ্রবাদ; আরো ব্যাপকভাবে বলতে গেলে- স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী, একাত্তরের চেতনাবিরোধী ইত্যাদি। কিন্তু আসলে এই সবের দ্বারা উদ্দেশ্য কী? মানে, এগুলোর মেসদাক ও মাকসাদ কী?  এক কথায়, এই সবের লক্ষ্য বা টার্গেট কী? কী-বা বোঝানো হয়ে থাকে এই ধরনের শব্দ-পরিভাষা ব্যবহার করে? যা বুঝানো হয়ে থাকে তার পরিধি বা ব্যাপকতা কতটুকু? আন্তর্জাতিক পরিসরে তথা, কুফফার-তাগুত বিশ্বমোড়লদের কাছে এই সবের ব্যাখ্যা কী? আমাদের মধ্যে একদল সুবিধাবাদী, ভীরু, কাপুরুষ মৌলভী যে  আভিধানিকভাবে এগুলোর নানা রকমের ব্যাখ্যা সর্বসাধারণ মুসলমানদের গিলাতে চাচ্ছে এদেশের সরকার-প্রশাসন বা আন্তর্জাতিক মোড়লদের কাছে সেগুলোর যথার্থটা কতটুকু? এইসব সমাচারই এখনকার সময়ের সবচে’ গুরুত্ববহ বিশ্লেষণের দাবি রাখে। যেহেতু আমরা মুসলমান। আর মুসলিম মাত্রই যেকোন পরিস্থিতি বা ঘটনার বিশ্লেষণ কুরআন-সুন্নাহ তথা, শরীয়াহ’র আলোকে করা আবশ্যক। তবেই আমাদের পর্যালোচনা হবে নির্ভেজাল। বিশ্লেষণ হবে নির্ভরযোগ্য। তাহলে এবার বাস্তবসমীক্ষার নিরিখে ও শরীয়াহ’র আলোকে ধাপে ধাপে প্রতিটি পয়েন্টের বিশ্লেষণ করা যাক।—

প্রথমত: আভিধানিক ব্যাখ্যা। ‘জঙ্গীবাদ’ শব্দটিই নিয়েই যেহেতু আমাদের দেশে এখনকার মাতামাতি, তাই প্রথমত এটারই ব্যাখ্যা করা যাক। ‘জঙ্গ’ শব্দটি ফার্সি। উর্দু ভাষাতেও এটির ব্যবহার ব্যাপক। অর্থ– যুদ্ধ, লড়াই, রণ। সেমতে ‘জঙ্গি’ মানে, যুদ্ধবিষয়ক, যোদ্ধা, লড়াই সংক্রান্ত ইত্যাদি। যেমন, প্রচলন আছে- ‘জঙ্গে আযাদী’- স্বাধীনতার যুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ। আমাদের দেশের ‘৭১এর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস উর্দুভাষায় এ শব্দেই বিবৃত হয়েছে।

এরচে’ বড় কথা হল, ইসলামের ইতিহাসের বিখ্যাত যুদ্ধ সমূহ যথাক্রমে ‘জঙ্গে বদর’, ‘জঙ্গে ওহুদ’, ‘জঙ্গে হুনাইন’ এভাবে ‘জঙ্গে জামাল’, ‘জঙ্গে সিফফিন’ নামেই খ্যাত। তাছাড়া আমাদের দেশের পত্র-পত্রিকাতেও যুদ্ধবিমানকে ‘জঙ্গিবিমান’ লেখার প্রচলন রয়েছে। ইংরেজির ‘টেররিজম’, আরবির ‘ইরহাব’ কিংবা উর্দু-ফার্সির ‘দ্যাহশাত গারদী’ অথবা বাংলার ‘সন্ত্রাস’ এর বস্তুনিষ্ঠ ব্যাখ্যা করতে গেলে প্রথমে দেখতে হবে এই ত্রাস, আতঙ্ক বা ভয়ভীতি সৃষ্টি কার পক্ষ থেকে এবং কার জন্য? উদাহরণস্বরূপ, একজন অপরাধী (চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, নেশাখোর) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখলেই ভীত-সন্ত্রস্ত হয় । আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সুতরাং তার দৃষ্টিতে পুলিশ সন্ত্রাসী। কারণ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই করাই ওদের একমাত্র পেশা ও জীবিকা উপার্জনের মাধ্যম। এ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশের অভিযান-এ্যাকশনের মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করা অন্যায়। তেমনি দেশদ্রোহী এবং বহিরাগত হানাদার শত্রুবাহিনীর দৃষ্টিতে সামরিক বাহিনীর সদস্যগণ সকলেই একেকজন ভয়ানক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। কাজেই বুঝা গেল,এসব ব্যাপার আভিধানিকভাবে বিশ্লেষণ করতে গেলে সবই আপেক্ষিক বিষয় মনে হবে। থাকলো মৌলবাদ, চরমপন্থা, ধর্মান্ধতাবাদ এবং উগ্র ধর্মান্ধতাবাদ। এ ব্যাপারে একটু খোলাসা করে বলতে গেলে এভাবে বলতে হয়– যেকোন মতবাদ, মতাদর্শ কিংবা ধর্ম (চাই তা সত্য হোক বা মিথ্যা) প্রতিষ্ঠা লাভ করতে হলে এবং তা সদর্পে টিকে থাকতে হলে এর জন্য প্রধান যে পূর্বশর্ত তা হল, সে ধর্ম কিংবা মতাদর্শের লোকেরা নিজ নিজ ভাবাদর্শ ও ধর্মমতের উপর অটল ও অবিচল থাকবে। জীবনে-মরণে সর্বক্ষেত্রে পুঙ্খানুপুঙ্খ সেই মতাদর্শের অকুণ্ঠ অনুসরণ-অনুকরণ করবে। ধর্মের মূলনীতি ও আদর্শ ব্যতীত কোনো পদক্ষেপই তারা গ্রহণ করবেনা। এক কথায় স্বীয় ধর্মের তরে তারা হবে নিবেদিতপ্রাণ। ধর্ম অনুসরনের এই যে চিত্র, ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করতে গেলে এটিকেই বলা হয়- রক্ষণশীল ধার্মিকতা, ধর্মভীরুতা ইত্যাদি। এমন ব্যক্তিকে বলা হয়, ধর্মপ্রাণ মানুষ। আর এ বিষয়টিই ধর্মবিরাগী কিংবা ধর্মবিদ্বেষী যে কেউ অবমূল্যায়ন করে বলবে- মৌলবাদ, চরমপন্থা, ধর্মান্ধতাবাদ এবং উগ্র ধর্মান্ধতাবাদ (!)। আশা করি, বিষয়টি অনেকখানি খোলাসা হয়েছে। এ তো গেল বিস্তারিত আভিধানিক বিশ্লেষণ। কিন্তু শক্তির সামনে যুক্তি যতটা অসহায়, হলুদ সাংবাদিকতার সামনে  

ঘটনার বাস্তবচিত্র যতখানি নিরুপায় ; সরকার-প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক কুফফার-তাগুত দুনিয়ায় এইসব আভিধানিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এরচে’ অনেক বেশি ঠুনকো ও নিরুপায়। অতএব, বাস্তবতার নিরিখে বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা হওয়া উচিত। একটি বিষয়ে তো কারো কোনো দ্বিমত থাকার কথা নয় যে, এ দুনিয়ায় সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্ব, হক-বাতিলের লড়াই ও ন্যায়-অন্যায়ের সংঘাত চিরন্তন ও শাশ্বত। সুতরাং, কেয়ামত-মহাপ্রলয় তথা, এ পৃথিবী ধ্বস হওয়ার আগ পর্যন্ত এ সংঘাত, এ লড়াই চলতেই থাকবে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন- ‘যারা ঈমানদার তারা লড়াই করে আল্লাহর পথে আর যারা কাফের তারা লড়ে তাগুতের পথে। সুতরাং, তোমরা যুদ্ধ কর শয়তানের সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে।’ অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে- ‘তারা (কাফের-মুশরিকরা) তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেই থাকবে, যাবৎ না তারা সক্ষম হলে তোমাদেরকে তোমাদের ধর্ম থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে।’ আরো বলা হয়েছে- ‘ইয়াহুদ-নাসারাগণ আপনার প্রতি ততক্ষণ পর্যন্ত সন্তুষ্ট হতে পারবেনা, যতক্ষণ না আপনি তাদের ধর্ম-আদর্শ অনুসরণ করেন।’ আবার মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। আসলে জঙ্গীবাদ জঙ্গিবাদ ধোঁয়া তুলে ওরা কী বলতে চায়, কী বুঝাতে চায়? যদি এর দ্বারা ওরা ধর্মের নামে নির্বিচারে নিরীহ, বেসামরিক মানুষ হত্যা করা বুঝিয়ে থাকে, তাহলে প্রথমত  ওদের উদ্দেশে প্রশ্ন থাকবে- একমাত্র (ইসলাম) ধর্ম ছাড়া বাকি যেকোন কারণে, যেকোন ধর্ম কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে ‘মানুষ’ হত্যা করা ওদের দৃষ্টিতে বৈধতা পাবে কি-না? যদি বৈধতা পেয়ে থাকে তবে একমাত্র ইসলাম ধর্মের নামে কাউকে হত্যা করলেই সেটা ‘জঙ্গীপনা’ হয়ে যাবে কেন? দ্বিতীয় কথা হল– (যেটা বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধের সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ কথা) ইসলাম শুধু ‘মানুষ’ হিসেবে কারো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা মুলতবি করেনা। তাছাড়া ইসলামী শরীয়তে ‘সামরিক’/বেসামরিক বলে কথা নেই। শরীয়তের দৃষ্টিতে মানুষ প্রধানত: দু’ভাগে বিভক্ত। মুসলিম ও কাফের। মুসলিম পরিচয় বহনকারীরা আবার দুই প্রকারে বিভক্ত। মু’মিন ও মুনাফিক। যারা কাফের তাদেরকে শরীয়ত পাঁচ ভাগে বিভক্ত করে। মুরতাদ, আহলে কিতাব (ইয়াহুদ-নাসারা), মুশরিক, মুলহিদ, যিন্দিক। শেষোক্ত চারপ্রকারের কাফেররা আবার হত্যাযোগ্য হওয়া না হওয়া হিসেবে প্রধানত দু’ভাগে বিভক্ত : মুআ’হাদ (যিম্মী), মুহারিব ( হারবী) ।  

সুতরাং, মানুষের প্রকার ও ধরন হিসেবে প্রত্যেক শ্রেণির সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বা সংঘাত ও লড়াইয়ের বিধান ভিন্ন ভিন্ন হবে। এ তো হল ইসলামী শরীয়াহর দৃষ্টিতে ‘মানুষ’ হত্যার বিধানের খোলাসা কথা। তবে ওরা যেভাবে এবং যে অর্থে মুসলমানদের উপর ‘জঙ্গীবাদে’র অভিযোগ আরোপ করে তাদের বিভ্রান্ত করতে চাইছে ওই দৃষ্টিকোণ থেকে নিরপেক্ষ যাচাই ও বিশ্লেষণ করলে যে তথ্য বেরিয়ে আসে তা রীতিমত রোমহর্ষক ও মর্মান্তিক বললেও নেহাৎ কম হবে। এবারে তাহলে কাফের-মুশরিক কর্তৃক বিশ্বব্যাপী (মুসলিম) গণহত্যার একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা করা যাক।

/ ৯০ এর দশকের শুরুতে সৌদি আরবের স্বার্থে আমেরিকা পরিচালিত উপসাগরীয় যুদ্ধে আরোপিত অবরোধের কারণে না খেয়ে মারা যাওয়ার শিশুর সংখ্যা দশ লক্ষাধিক।

৯/১১ পরবর্তী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শান্তিকামী অ্যামেরিকা এবং তার মিত্ররা ৪০ লক্ষ মুসলিম হত্যা করেছে।

এর আগে নব্বইয়ের দশকে আমেরিকা কর্তৃক ইরাকের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে অনাহারে মারা যায় প্রায় ১০ লক্ষ মুসলিম শিশু “সন্ত্রাসী”

http://www.mintpressnews.com/do-the-math-global-war-on-terror-has-killed-4-million-muslims-or-more/208225/

http://www.nytimes.com/1995/12/01/world/iraq-sanctions-kill-children-un-reports.html

http://www.globalresearch.ca/us-sponsored-genocide-against-iraq-1990-2012-killed-3-3-million-including-750000-children/5314461

/ বসনিয়াতে মাত্র ৩দিনে ৮৩৭২ জন মুসলিম হত্যা করে সার্বিয়ান খ্রিস্টানরা(আন্তর্জাতিক হিসাব মতে, মূল সংখ্যা আরও বেশী)।

জাতিসংঘ ঘোষিত প্রথম নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত বসনিয়ার সেব্রেনিতসায় সংঘটিত এ গণহত্যা সরাসরি আমেরিকা ও জাতিসংঘের মদদে পরিচালিত হয়।

# সুত্রঃ  A Cry From The Grave, BBC নির্মিত ডকুমেন্টরি

/ শুধুমাত্র সিরিয়াতে হত্যা করা হয়েছে ৫ লক্ষাধিক মুসলমান। সিরিয়াতে কাফির নুসাইরি শাসক বাশার আল আসাদের মিত্র হিসেবে কাজ করছে আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ইরান, লেবানন, সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও অন্যান্য আমেরিকান দালাল দেশ যাদেরকে মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয় দিয়ে অজ্ঞ মুসলিমদের ধোকা দিয়ে থাকে কাফির মিডিয়াগুলো।

রাশিয়ান টিভি চ্যনেলগুলোতে আবহাওয়া ভালো থাকলে উপস্থাপক রাশিয়ান সেনাদের আহ্বান জানায় অধিক হারে বোমা হামলা করতে।

/ ইয়েমেন সৌদি বিমান হামলায় কয়েক হাজার নিরীহ মুসলমান নিহত হয়। শিয়া দমনের নামে সুন্নিদের উপর চালানো এই নির্মম গণহত্যা চাপা পরে যায় সৌদি দালাল আলেমদের মিথ্যা ফতোয়ার কারণে।

বাংলাদেশে মতিউর রহমান মাদানি, আবদুল্লাহ শাহেদ মাদানি সহ অনেকে ইয়েমেনে সৌদির গণহত্যাকে সরাসরি সমর্থন জানিয়েছে। গোটা বিশ্বব্যাপীই সৌদি বেতনভোগী আলেমরা সৌদি তাগুত শাসকদের অপরাধের সাফাই গেয়েছে।

এছাড়াও ৯০ এর দশকে প্রথমবারের মত আল্লাহ’র রাসুল (সা) এর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কাফির আমেরিকাকে যুদ্ধঘাটি নির্মাণের অনুমতি দেয়। এবং তৎকালীন গ্র্যান্ড মুফতি এর বৈধতা দান করে।

যে আলেমরাই এর বিরোধিতা করেছিল তাদের সকলকেই হত্যা অথবা বন্দী করা হয়। শায়খ উসামা বিন লাদিন (রহ)’র জাতিয়তা কেড়ে নেয়া হয় কেবলমাত্র “জাজিরাতুল আরবে কাফিরদের উপস্থিতি”র বিরোধিতা করার কারণে।

এছাড়াও সৌদির অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম শায়খ হামুদ বিন উক্কলা আশ শুয়াইবি (রহ) কে হত্যা করে সৌদি তাগুত গোষ্ঠী। বন্দী করে শায়খুল আল্লামা সুলাইমান আল উলওয়ান, আলি বিন খুদাইর আল খুদাইর, নাসির বিন হামদ আল ফাহাদ সহ আরও অনেককেই।

/ আফগানিস্তানে ২০০১ এর অক্টোবরে আক্রমণের পর ন্যাটো জোটকে সাথে নিয়ে আমেরিকা এখন পর্যন্ত পাঁচ লক্ষাধিক মুসলমান হত্যা করেছে। ইতালি ন্যাটো জোটের অন্যতম সদস্য।

/ ইরাকে ২০০৩ এর পর কয়েক লক্ষ মুসলমান হত্যা করে আমেরিকা-ইরান-ইরাকি শিয়া জোট।

/ সোমালিয়াতে কেনিয়া, আফ্রিকান ইউনিওন, ইথিওপিয়া, উগান্ডা মিলে হত্যা করেছে অসংখ্য মুসলমানকে। সাক্ষাৎ মোসাদ সেখানে কেনিয়ান সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

দেখুন – আল জাজিরার ডকুমেন্টরি – Inside Kenya’s Death Squad. ইউটিউবেই পাবেন।

/ বার্মাতে মুসলিম নিধন সবারই জানা। প্রায় ৬ লক্ষাধিক মুসলমান নারীকে যৌনদাসী বানিয়েছে নাপাক বৌদ্ধ রাখাইনরা। অথচ পাশের দেশ বাংলাদেশে আছে ১৬ কোটি মুসলমান!! ইন্না লিল্লাহ।

বিস্তারিত বিবরণ – http://time.com/4089276/burma-rohingya-genocide-report-documentary/

/ সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে খ্রিস্টানরা প্রকাশ্যে দিনের আলোটে মুসলমানদের হত্যা করার পর লাশ চিবিয়ে খেয়েছে। মিডীয়াতেও এসেছে। ইন্টারনেটে খুজলেই পাবেন।

১০/ মালিতে ফ্রান্স ২০১৩ সালে বিনা উস্কানিতে হামলা করে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মুসলিমকে হত্যা ও বন্দী করেছে। সেখানে ১০-১২ বছরের মেয়েদেরকেও খাবার ও পানি দেয়ার কথা বলে ধর্ষণ করেছে। বেশীদিন আগের খবর না। খুজলেই পাওয়া যাবে।

এছাড়াও ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, লিবিয়া, ভারত, বার্মা, নাইজেরিয়া, চীনের জিংজিয়াং প্রদেশ, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান সহ ইউরোপের সকল দেশে আজ মুসলিমদের উপর হচ্ছে নির্মম অত্যাচার। ইউরোপ-আমেরিকার জেলগুলোতে বিনা বিচারে পচে মরছে অসংখ্য আলেম-উলামা ও ইসলামের দা’ঈরা।

তাছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি গবেষণা সংস্থা কাউন্সিল অব ফরেন রিলেশন (সিএফআর) এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী- ২০১৫ সালের প্রথম দিন থেকে শেষদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মুসলিমবিশ্বে ২৩ হাজার ১৪৪টি বোমা বর্ষণ করেছে। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট ফেলেছে ২৮ হাজার ৭১৪টি বোমা। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বাকি দেশগুলোর ফেলা বোমার সংখ্যা ৫ হাজার ৫৭০টি। হামলার ৭৭ শতাংশই চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একাই।

তবে এটি সামগ্রিক চিত্র নয়। কারণ চালক বিহীন ড্রোন হামলা বাদ দিয়ে এটি শুধু সরাসরি বোমা হামলার চিত্র। ড্রোনের সংখ্যা ধরলে এ সংখ্যা আরো বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। মুসলিমপ্রধান কয়েকটি দেশে এসব বোমা ফেলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি গবেষণা সংস্থা কাউন্সিল অব ফরেন রিলেশন (সিএফআর) এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী- ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইয়েমেন এবং সোমালিয়ায় এসব বোমা ফেলা হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে শুধু যুদ্ধকবলিত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক-সিরিয়াতেই ফেলা হয়েছে ২০,০০০টি বোমা।

যে পরিমাণ বোমা ও বোমা সরঞ্জাম ফেলা হয়েছে তা লাখ টনকেও ছাড়িয়ে গেছে। আর এসব বোমার কুপ্রভাব মুসলমানদের দীর্ঘমেয়াদে ভোগ করতে হবে। কারণ এসব বোমার তেজস্ক্রিয়তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম থেকে যাবে এবং পরবর্তী মুসলিম প্রজন্মের জন্য অভিশাপ হয়ে থাকবে।.

কাউন্সিল অব ফরেন রিলেশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মিশা জেনকো বলেছে, ‘২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ছয়টি মুসলিম দেশে এসব বোমা হামলা চালিয়েছে যার মধ্যে ২২ হাজার ১১০ বোমা ফেলা হয়েছে ইরাক ও সিরিয়ার মাটিতে, ৯৪৭টি আফগানিস্তানে, ৫৮টি ইয়েমেনে, ১৮টি সোমালিয়ায় এবং ১১টি পাকিস্তানের মাটিতে ফেলা হয়েছে।’

ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইয়েমেন এবং সোমালিয়ায় মার্কিন বোমা এবং বিমানের আঘাতে লক্ষ-লক্ষ মুসলমান শহীদ হয়েছেন। মুসলমান নর-নারী এবং শিশুদের তাজা রক্তে মধ্যপ্রচ্যে রক্তের বন্যা প্রবাহিত হয়েছে। মুসলমান নারী শিশুদের কান্নায় আসমান-যমীন কাঁদছে। কিন্তু কেন? কি অপরাধে মুসলমানদের তাজা রক্তের জন্য হিংস্র হায়েনার চেয়েও হিংস্র হয়েছে ইহুদী, নাছারা, কাফির, মুশরিকরা?

অন্যদিকে গতকাল (২৭/০৮/১৬) মানবিজে বোমা হামলা চালিয়ে ১৬০ জনের বেশি মুসলিমকে অ্যামেরিকানরা হত্যা করেছে। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

সারা পৃথিবীতে প্রায় ৯৫% সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে যাচ্ছে অ্যামেরিকা-ইস্রাইল-ইউরোপ- ভারত। মুসলিম ১০ জন কাফির হত্যা করলে মিডিয়া ১০ দিন সেটা নিয়ে টানা রিপোর্ট করছে। কিন্তু দিনের পর দিন কাফিররা শত শত মুসলিমকে হত্যা করা যাচ্ছে এ নিয়ে মিডিয়া চুপ। বুদ্ধিজীবিরা চুপ, শান্তির সবক দিতে আসারা চুপ।

এবার দেখুন, পার্শ্ববর্তী দেশ কাশ্মীরের অবস্থা—

APDP এর তথ্য অনুসারে ১৯৮৯ সালের জানুয়ারী থেকে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্তঃ

নিহত- ৯৪,৪৩৫ জন

পুলিশ/আর্মি হেফাজতে মৃত্যু- ৭,০৪৬ জন

গুমের কেস- ১০,০০০

গণধর্ষণ- ১০১,১৮১

বিধবা- ২২,৮১৩ জন

অর্ধবিধবা (যাদের স্বামীদের ধরে নিয়ে গেছে,

আর কোন খবর পাওয়া যায়নি) – ৪,০৩৬ জন

ইয়াতীম- ১০৭,৫৬৬ জন

বেসামরিক নাগরিক গ্রেফতার- ১৩৪,১১৫ জন

ঘরবাড়ী ধ্বংস- ১০৬,০৬৪ টি।

এ ক্ষেত্রে ইসলাম কী বলে? আলকুরআন কী বলে? দেখুন, কত সুস্পষ্ট নির্দেশনা!  ইরশাদ হয়েছে- ‘তারা (কাফের-মুশরিকরা) তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেই থাকবে, যাবৎ না তারা সক্ষম হলে তোমাদেরকে তোমাদের ধর্ম থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে।’ আরো বলা হয়েছে- ‘ইয়াহুদ-নাসারাগণ আপনার প্রতি ততক্ষণ পর্যন্ত সন্তুষ্ট হতে পারবেনা, যতক্ষণ না আপনি তাদের ধর্ম-আদর্শ অনুসরণ করেন।’ কুরআন আরো বলছে- ‘যাদের সাথে লড়াই করা হচ্ছে , তাদেরকে জিহাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে; যেহেতু তারা নিপীড়িত। অন্যত্র আরো সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ এসেছে। ‘কাফেররা চায়, যেন তোমরা তোমাদের অস্ত্রসস্ত্রের ব্যাপারে গাফেল থাকো, যার ফলে তারা তোমাদের একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে।

আর কাফেরদের স্বভাবই তো হল নিজেরা সর্বত্র বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সংস্কার সংশোধনকামী মুসলিমদের উপর ফেতনা-ফাসাদ ছড়ানোর অভিযোগ তোলা। যেমনটা ফেরাউন করেছিল মূসা আ.এর ব্যাপারে। কুরআন তো এ ক্ষেত্রে বলে– ‘সুতরাং যারা তোমাদের প্রতি সীমালঙ্ঘন করে, তোমরাও তার প্রতি তদ্রূপ সীমালঙ্ঘন কর যেরূপ সে তোমাদের প্রতি সীমালঙ্ঘন করেছে।’

আজকে পিঠ বাঁচাতে হুজুর, আল্লামা সবাই-ই নেমে পড়েছি জঙ্গীবাদ নিয়ে.. বিশাল বিশাল মিছিল করে জানান দিচ্ছি আমরা জঙ্গীবাদ চাই না। ভালো কথা..! কিন্তু যখন এদেশের ৫০ পার্সেন্ট মানুষ জঙ্গীপনা জিনিসটাই বুঝে না! তারা এখনও ভাবে শব্দটা সম্ভবত জংলী!! অথচ ওইদিকে আইএসীয় জঙ্গীবাদকে ঢাল বানিয়ে পেছন দরজা দিয়ে অন্য কিছু করার চেষ্টা হচ্ছে কি না সেটা দেখার দায়িত্ব কাদের..?? তার ব্যাপারে কিছু বলছে না কেউ-ই!! আমরা আইএস কে মোটেই সমর্থন করার কথা বলছিনা। তবে ব্যাপার হল- আন্তর্জাতিক কুফফারবিশ্ব এবং তাদের অনুসারী আমাদের সরকার, প্রশাসন আইএস, আল-কায়েদা, আর তালেবানের মাঝে কোনোই ফারাক করেনা। সবই তাদের দৃষ্টিতে জঙ্গী সংগঠন। সন্ত্রাসী সংগঠন। আমার আপনার মত মৌলভী-মওলানাদের তাহকীক আর বিশ্লেষণ মাথায় নিয়ে তারা জঙ্গীদমন অভিযানে নামে নাই। তাদের কাছে মূলত, জঙ্গিবাদ মানেই জিহাদ, আর জিহাদ মানেই জঙ্গীবাদ। এই কারণেই দেখেন না কীভাবে মসজিদ, মাদ্রাসা, ইসলামী লাইব্রেরী সমূহের উপরে কেমন কড়া নজরদারী চলছে। মূলত : জঙ্গীবাদ, আতংবাদ, টেররিজম, ইরহাব, ইন্তেহাপছন্দ, মানসুবাবন্দী এসবই এক ক্যাটাগরির শব্দ। মা’না, মুরাদ সবই একটাই এবং সেটি দ্ব্যর্থহীনভাবে ‘জিহাদ’ এর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এছাড়া অন্য কোনরকম হত্যা, খুন, গুম, সন্ত্রাস এমনকি তাদের পরিচালিত ও নেতৃত্ব দেয়া কোনো গণহত্যার বেলায়ও এসব শব্দ আন্তর্জাতিক পরিভাষায় প্রযোজ্য নয়। একসূত্রে জানা গেছে- বাংলাবাজারের প্রত্যেকটা প্রকাশনীকে তাদের প্রত্যেকটা বইয়ের তালিকা তথ্য মন্ত্রণালয়ে দেয়ার জন্য জোর নির্দেশ দিয়েছে। তারা সেখানে বইগুলো চেক করে দেখবে। জঙ্গীপনা খুঁজে বের করবে! আসলে এসব ক্ষেত্রে বিশেষ টেনশন ও উৎকণ্ঠার কিছু নেই। এমনটা সিরিয়া, মিসরে আরো বহু আগেই ঘটেছিল। এসব মূলত কোনো জনপদ ও ভূখণ্ডে মুসলিম উম্মাহ জেগে উঠার একটি নিদর্শন এবং  

স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আমি অত্যন্ত অবাক হয়েছিলাম, যখন বাংলাদেশে দাওয়াত-তাবলিগের সুবাদে সফরে আসা এক সিরিয়ান আলেম থেকে জানতে পেলাম- বিশ্বনন্দিত আরবী সাহিত্যিক, বিশিষ্ট ইসলামী সমাজ সংস্কারক শাইখ আলী তানতাভী রহ. – যার ব্যাপারে শাইখুল আদাব আল্লামা নূর আলম খলীল আমীনী বলেছেন- ‘ওহ তো আরাব কে থানভী থে’; তাঁর রচিত কিতাবাদী নাকি সিরিয়াতে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ! তাঁর রচনাবলীতে নাকি জঙ্গিবাদের উস্কানি আছে! এই অভিযোগে। আমি তো শুনে বললাম, আরে আমাদের দেশের ঢাকার অভিজাত লাইব্রেরিগুলিতে তো এখনো তাঁর বইয়ের মেলা কদর। পাওয়াও যায় অ্যাভেইলেভেল! শুনে বেচারা খুব আক্ষেপ করল। এটা আজ থেকে আরো পাঁচ বছর আগের কথা। তখনই মনে হয়েছিল – এরকম পরিস্থিতি আমাদের দেশেও সৃষ্টি হতে পারে কোনো একসময়। দেখুন, জাকির নায়েক কোনো ইস্যু ছিলেন না। তৈরি করা হয়েছিল। একজন জাকির নায়েক বা একটি পিসটিভি মুখ্য ছিলনা। আদিষ্ট লক্ষ্য-দৃষ্টি ছিল অন্যকিছু এবং সেটাই ছিল মুখ্য। কী ছিল সেটা? রামপাল-বাণিজ্যের পর সেটা কি একটু পরিষ্কার হল? মন্দিরের পাশের ডোবায় অস্ত্রের খনি পাওয়ার পর মনিটরিং এর ফরমান জারি হয় মসজিদের খুতবায় ! আরেকটু কি ক্লিয়ার হল? যদি হয়, তাহলে তো ভালই। আর না হলে আবেগের ঘোড়ায় হুজুগের লাগাম ধরে যেদিকেই দৌড়ানো হোক, সামনে শুধু আস্তাবলেরই খোঁজ মিলবে। কায়া যা করে, ছায়াও তাই করে। ভারতে পিস টিভি নিষিদ্ধ করার সংবাদ ভারতের সকল মানুষ জানার আগে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হল। আমাদের আপন শ্রেণির একটি অংশ খুশি হলেন। আমি জানিনা— ইতোমধ্যেই কাহিনী তাদের কাছে ক্লিয়ার হয়েছে কি-না ? নাকি আরো কিছু হারানোর পর হবে ? রামপাল গেছে। জুমার নামাযের স্বাধীনতা গেছে। আর কি কি গেলে তারা বুঝবেন, কী ঘটছে দেশে আর কেনো ঘটানো হচ্ছে?!

অবশেষে এদেশের একদল ভীরু, কাপুরুষ ও সুবিধাবাদী ওলামাদের উদ্দেশ্যে জনৈক মাওলানা আবদুল্লাহ মায়মুনের ভাষায় বলব- আপনারা তাদের জন্যে লক্ষাধিক আলেমের ফতোয়া সংগ্রহ করুন, বিক্ষোভ-মিছিল করুন, মানববন্ধন করুন! তারপরও তারা আপনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবে না!!!!

প্রতিমন্ত্রী বললো, সাতদিনের ভেতর কওমী মাদরাসা বন্ধ করে দিতে! আমার প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে প্রতিমন্ত্রী এরকম সাহস দেখায়? অথচ এই কওমী জোব্বাধারীরাইতো লক্ষাধিক আলেমের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন, এরাই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মিছিল- বিক্ষোভ করেছেন, এরাইতো নিজেদেরকে নির্দোষ প্রমাণার্থে মানববন্ধন করেছেন, এরাইতো গলা ফাটিয়ে, কী-প্যাড ঝাকিয়ে বলেছেন, ‘কওমী মাদরাসা জঙ্গি নয়, আদর্শ মানুষ তৈরীর কারখানা’? তাহলে এত লম্ফঝম্প কী কাজে আসলো? উনাদের এত দৌড়ঝাঁপ কি একজন প্রতিমন্ত্রীরও বিশ্বাস অর্জন করতে পারলো না? অনেকে বলবেন, এটি একটি কথার কথা, একবার মাদ্রাসায় হাতে দিয়ে দেখুক না কী দাবানল ছড়িয়ে পড়ে! আমরা বলবো, এটি কথার কথা নয়, এটি হচ্ছে ওই প্রবাদের বাস্তবতা- ‘দেখলে মশকারী, না দেখলে চুরি’! অন্য কথায়, ‘প্রতিবাদ করলে কথার কথা, নীরব থাকলে বাস্তবতা’।

এই জালিম সরকারের অতীতের টাইমলাইনই তা বলে দিচ্ছে। আরেকদল আছেন, যারা এই জালিমের পুলিশবাহিনীর সাথে ছবি তুলে প্রোপিক বানাচ্ছেন। তাদেরকে বলবো, অবরোধের পুর্বে অনেকে পুলিশকে কলা-তরমুজ খাওয়াইছিলো, কিন্তু পরে এই পুলিশ কলা খেয়েই আমাদের উপর গুলি করেছে।

আপনাদের এই তোষামোদ নিজেদেরকে টিস্যু পেপার প্রমাণ করা ছাড়া আর কোনো কাজে আসবে না।

হে প্রিয়! নিজেকে আর কত আদর্শহীন খড়কুটা প্রমাণ করলে ওরা আপনাকে বিশ্বাস করবে? মনে রাখুন, আপনারা তাদের জন্যে লক্ষাধিক আলেমের ফতোয়া সংগ্রহ করুন, বিক্ষোভ-মিছিল করুন, মানববন্ধন করুন! তারপরও তারা আপনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবে না!!!!

কারণ এরা হচ্ছে যিন্দীক, নাস্তিক-মুরতাদদের চেলা। এদের কলকাঠি নাড়া হচ্ছে মুশরিক-খৃষ্টান রাষ্ট্রদ্বয়ের রাজধানী দিল্লী-ওয়াশিংটন থেকে। আর এই ইয়াহুদী-খৃষ্টানরা ততক্ষণ পর্যন্ত আপনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না আপনারা তাদের ধর্মকে গ্রহণ করবেন।

… আপনি এদের হাতের খেলনা হওয়ার পূর্বে উম্মাহের পতনের ইতিহাস পড়ুন। পড়ুন স্পেন-বাগদাদ, বোখারা-সমরকন্দের পতনের ইতিহাস। তাহলে দেখবেন, সে যুগেও কিছু উলামায়ে ছু’ ছিলো, ধর্মবিক্রেতা আলখেল্লাধারী ছিলো, এরা নিজেরা মুরগী হয়ে শৃগাল হিংস্র কাফেরদের সামনে সাধু প্রমাণে আপ্রাণ চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছিল, কিন্তু কাজ হয় নি, পরিশেষে ওই শৃগালরাই এদেরকে মুরগীর মতো খেয়েছে। পার্থক্য শুধু এইটুকু যে, উনারা মরেছেন ঠিকই, কিন্তু অপমানের মৃত্যু, দালালীর মৃত্যু।

ইতিহাসে উনাদের স্থান হয়েছে দালালদের তালিকায়, গাদ্দারদের তালিকায়। আর যারা তাদের সাথে আপোষ করে নি, তারাও মরেছে, তবে শহীদী মৃত্যু, ইজ্জতের মৃত্যু, ইতিহাসের তাদের স্থান হয়েছে বীরদের তালিকায়। মনে রাখুন, আল্লাহ আমাদেরকে নিজেদের আদর্শ বিক্রি করে ইসলাম রক্ষার দায়িত্ব দেন নি, বরং সহজ-কঠিন পরিস্থিতিতে ইসলাম পালনের দায়িত্ব দিয়েছেন, সহজ-কঠিন অবস্থায় তার আনুগত্যের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহর অবাধ্য হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে আল্লাহর আনুগত্যের মধ্যে মৃত্যু অনেক শ্রেয়!

….

আল্লাহর আনুগত্যের মধ্যে থাকার কারণে যদি আমাদেরকে কারাগারে যেতে হয়, তাহলে সায়্যিদুনা ইউসুফ আলাইহিস সালামের বলবো, ‘রাব্বি আস-আসিজনু আহাব্বু ইলাইয়্যা’ (হে পরওয়ারদিগার, কারাগার আমার জন্যে প্রিয়) আর যদি কেউ বলে, তোমাকে ক্রসফায়ার করা হবে, তোমাকে টুকরো টুকরো করা হবে, তাহলে হযরত খুবাইব রাজিয়াল্লাহু আনহু’র মতো বলবো, ‘আমি আমার শত্রুর সাথে কখনো বিনম্রতা প্রকাশ করবো না, আমাকে যে পার্শ্বে চিৎ করে হত্যা করা হোক না কেনো?’ আমরা মুহাম্মদের দীনের ওয়াফাদার সিপাহী, ইসলাম ও আজমতের নিগাহবান সিপাহী। বাতিলের প্রভুত্ব কখনো মেনে নিব না। মরে যাবো, তবুও দীনকে পণ্য হতে দিব না। সুতরাং কেউ যদি বলে, এই জালিমের বিরুদ্ধে সামান্য কোমল হলে কেমন হয়? তখন সায়্যিদ কুতুব শহীদের মতো জবাব দিব, ‘যে আঙুলগুলো প্রতিদিন পাঁচবার আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দেয়, এগুলোর জন্যে অসম্ভব কোনো জালিমের বিরুদ্ধে সামান্য পরিমাণ দয়া প্রদর্শন করা’। মৃত্যু তো একটাই, সে মৃত্যু যেনো শহীদী মৃত্যু হয়!

 

জানি, এতটুকুন পড়ার পর আমাদেরকে কেউ বলবেন, ‘আবেগী’, কেউ বলবেন, ‘অপরিণামদর্শী’! তখন আমাদের জবাব একটাই হবে, আমরা কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরওয়া করি না। আমাদেরকে যদি কেউ আবেগী বলে, এতে সমস্যা কী?

আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তো একদল বুদ্ধিজীবী পাগল বলেছে। আমরা তো সেই নবীরই উম্মত, তাহলে কেনো নিন্দুকের নিন্দায় হাত গুটিয়ে নেব? সুতরাং শেষ পরিণতি দেখার জন্যে তোমরা অপেক্ষা করো, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় আছি। নিশ্চয় শেষ ফলাফল মুত্তাকীদের জন্যে।

হে আল্লাহ, আমাদেরকে ধৈর্য ধরার তাওফীক দাও! যে কোনো বাতিলের মুকাবেলায় অটল অবিচল থাকার তাওফীক দাও! কথা কাজে মিল থাকার তাওফিক দাও! ইলম অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দাও! এই ইলমকে কাল কিয়ামতের দিন আমাদের বিরুদ্ধে দলীল বানিও না। আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন।

https://www.pdf-archive.com/2016/09/03/jihad/

http://document.li/tIY4

http://up.top4top.net/downloadf-2468vsl3-pdf.html

exrj4w

https://justpaste.it/xzrw

https://jpst.it/MZgy

Posted in ইমারাতে ইসলামী আফগানিস্তান, উসামা মিডিয়া, Uncategorized

বেসামরিক হতাহত প্রতিরোধ বর্তমান জিহাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

একটি অনুবাদ প্রবন্ধ

বেসামরিক হতাহত প্রতিরোধ বর্তমান জিহাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

জুলাই ২৫, ২০১৬ তে আফগানিস্তানে জাতিসংঘ সহযোগী মিশন (ইউ এন এ এম এ) চলতি বছরের ছয় মাসের বেসামরিক হতাহতর প্রতিবেদন প্রকাশিত করেছে। যথাক্রমে প্রতিবেদনে তারা বেসামরিক হতাহতের বেশিরভাগই ইসলামী ইমারাতের উপর আরোপিত করেছে। দুঃখ জনক বিষয় হল, দখলদার দেশগুলো ও কাবুলের প্রশাসনের বাহিনীর দারা হওয়া  বেসামরিক হতাহতর সংখ্যা বরাবরি বেশ কম দেখানো হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে নগণ্য হয়ে থাকে জানুয়ারি ২০০৯ এর যখন থেকে ইউ এন এ এম এ বেসামরিক হতাহতর হিসাব নেয়া শুরু করে।

বাস্তবে, ইসলামী ইমারাত জনগনের মধ্যে থেকে উঠে এসেছে এবং তাদের সাথেই বসবাস করে। এ কারনেই ইসলামী ইমারাতের নেতৃবৃন্দ বেসামরিক হতাহত বন্ধকে নীতি হিসেবে মনোযোগ দিয়ে আসছে এবং বেসামরিক হতাহত বন্ধের বিষয়ে রাজনৈতিক অফিস ও বেসামরিক হতাহত প্রতিরোধ বিভাগের মাধ্যমে ইউ এন এ এম এ-এর মানবাধিকার বিভাগের সাথে সহযোগিতার জন্য উৎসাহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি, ইসলামী ইমারাত আফগানিস্তানের নেতৃবৃন্দ বেসামরিক হতাহত প্রতিরোধ করতে গভর্নর ও কমান্ডারদের বিভিন্ন সময় নির্দেশনা দিয়েছে এবং প্রায় সময় মুহাজিদিনদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সেমিনার করা হয়। একই সাথে, ইমারাত তার সামরিক কমিশনের কাঠামোর সাথে “বেসামরিক হতাহত প্রতিরোধ বিভাগ” যুক্ত করেছে যাকে পরিপূর্ণ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে এবং একটি স্বতন্ত্র আচরনবিধি দেয়া হয়েছে যার বিধি ৯ এ বলা আছে যে ইসলামী ইমারাত কোনক্রমেই বেসামরিক হতাহত মেনে নিবে না। একইভাবে, ইসলামী ইমারাতের নেতৃবৃন্দ বরাবরই সাধারণ মানুষের সাথে ভাল আচরন ও বেসামরিক হতাহত প্রতিরোধের বিষয়ে জোর দিয়ে আসছে। এছাড়াও, ইসলামী ইমারাতের প্রতিনিধিগণ আফগানিস্তানের উপর হওয়া আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোতে, যেমন কিয়ত সম্মেলন, জাপান, চান্তিলি সম্মেলন, ফ্রান্স, ওসলো সম্মেলন, নরওয়ে এবং দোহাতে হওয়া অন্যান্য সম্মেলনে যোগদানের সময় বেসামরিক হতাহত প্রতিরোধকে এই জিহাদের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই সবকিছুই বোঝায় যে ইসলামী ইমারাতের বেসামরিক হতাহত প্রতিরোধের বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

যাহোক, এই কথা বলতেই হয় যে আফঘানিস্তানে বেসামরিক হতাহতের কারন হালকা অস্ত্র ব্যবহারের ফলে না বরং দখলদার বাহিনী ও কাবুল প্রশাসনের বাহিনীর দ্বারা ভারি অস্ত্র ব্যাবহার, অন্ধেরমত বোমাবর্ষণ ও ড্রোণ হামলার কারনে হয়ে আসছে। আসলে, এইসব অস্ত্র তাদের কাছেই আছে। বাস্তব উদাহরণ হল বাঘলান প্রদেশের দান্দ ঘুরি ও দান্দ সাহাবুদ্দিন যেখানে স্থানীয় লোকদের বাড়িঘর ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল, নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের শহীদ করা হয়েছিল ও এর ফলে হাজারও মানুষকে ঘরছাড়া করা হয়েছিল।

ইসলামী ইমারাতের মুজাহিদরা না তারা ভীড়ের জায়গাগুলোতে বিস্ফোরণ ঘটায় যা তাদের আচরণ বিধি অনুযায়ী নয় এবং না তারা এমন বোমা পুতে রাখে যা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। একইভাবে, সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে জিহাদের সময়কার পুতে রাখা বোমার দ্বারা মাঝেমধ্যে যে হতাহত ঘটে তা ইসলামী ইমারাতের সাথে সংযুক্ত করা সমীচীন না।  তার উপর, ওইসব বিস্ফোরণ ও বোমা যা শুধু মাত্র সরকারের কাছেই আছে তা দ্বারা হতাহত হলে তার জন্য ইসলামী ইমারাতকে দায়ি করা ঠিক না। ওই সকল ঘটনার নিজস্ব কু মতলব আছে এবং ইসলামী ইমারাত এর সাথে জরিত না থাকার ঘোষণা দিচ্ছে।

জাতিসংঘ নিজেকে একটি বিশ্ব নিরপেক্ষ সংস্থা হিসেবে বিবেচনা করে। তাই এর প্রতিবেদনগুলো বাস্তবতার প্রদর্শক হওয়া দরকার এবং অপবাদের সুযোগ নয়। যদি সরকারের নয় বরং মানুষের আস্থা পেতে চায় তাহলে এই সমৃদ্ধ সংস্থার জন্য এটা অপরিহার্য। অবশ্যই যদি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিভাগের বেসামরিক হতাহত প্রতিরোধের এই সম্মিলিত লক্ষে বিষয়ে কোন কিছুর জানার থাকে তাহলে ইসলামী ইমারাতের রাজনৈতিক দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। ইসলামী ইমারাত তার পক্ষ থেকে বেসামরিক হতাহত প্রতিরোধের বিষয়ে সব রকম ভালো প্রস্তাবকে স্বাগত জানায়।


PDF
https://www.pdf-archive.com/2016/09/03/prevention/

http://document.li/5Fw8

http://up.top4top.net/downloadf-246eqi02-pdf.html

exrj4w

https://justpaste.it/xzq9

https://jpst.it/MZcJ

Posted in ইমারাতে ইসলামী আফগানিস্তান, উসামা মিডিয়া

ইমারাতে ইসলামীর অগ্রযাত্রায় কাবুল প্রশাসনের উদ্বেগ

MIUwTD.jpg

ইমারাতে ইসলামীর অগ্রযাত্রায় কাবুল প্রশাসনের উদ্বেগ

হেলমান্দ , বাঘলান , কুন্দুজ,  নুরিস্তান ও অন্যান্য প্রদেশে ইসলামী ইমারাতের সাম্প্রতিক বিজয় দখলদার বাহিনী ও কাবুল প্রশাসনকে অনেক উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। যদিও তারা বি-৫২ বোমারু সহ আকাশ ও স্থল বাহিনীর পরিপূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করেছে তবুও তারা মুজাহিদিনদের বিজয়ের স্রোতকে বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন কাবুল প্রশাসন মিথ্যার আশ্রয় নিছে। এইভাবে তারা মনে করছে তারা তাদের ব্যর্থতাকে ঢেকে বিশ্বের সাহায্য ও সহানুভূতি নিবে। মাঝেমধ্যে তারা দাবি করে যে বিদেশি যোদ্ধারা হেলমান্দে যুদ্ধ করছে, আবার তারা তা বদলে বলে তালিবান বেসামরিক জনগণকে লক্ষ করে হামলা চালাচ্ছে এবং ব্রিজ ধ্বংস করছে আবার অন্য সময় বলে যে তালিবান স্কুল জ্বালিয়ে দিচ্ছে। তারা মনে করে যে তারা মিথ্যা অপবাদের দ্বারা আফগান মুসলিম জনগনের মনোযোগ তাদের অত্যাচার ও অপরাধের থেকে সরিয়ে নিতে পারবে যা তারা আগেও করেছে। কিন্তু জনগন তাদের নিজ চোখ দিয়ে দেখছে যে কাবুল প্রশাসনের বাহিনীই স্কুলে তাদের ঘাটি বানিয়েছে, হিউমেন রাইটস ওয়াচ তা নিশ্চিত করেছে। তার উপর দুস্তমের কুখ্যাত রক্ষীবাহিনী বেসামরিক মানুষ হত্যা ও ঘর লুটপাট করে যাছে দেশের উত্তরাঞ্চলে। বাঘলান ও কান্দাহার প্রদেশে ও নাঙ্গারহারের হিসারাক জেলার কাবুল প্রশাসনের নিরাপত্তা প্রধানরা এখনো গণমাধ্যমে সেনাবাহিনির জন্য এই ফরমান জারি রেখেছে যে “কোন তালিবানকে জীবিত আনবে না”। তাদেরকে প্রশ্ন করা বা তদন্ত করার বদলে আরও উৎসাহিত ও প্রশংসিত করা হয়। অন্যদিকে ইসলামী ইমারাতের মুজাহিদিনদের এই ফরমান জারি করা আছে যে তারা যেন তাদের কাছে দেওয়া আচরণবিধি অনুযায়ী তাদের কার্যক্রম চালায়, যাতে সাধারণ মানুষের সাথে তাদের ব্যবহার ভালো হয় এবং জনকল্যাণ মূলক জায়গাগুলোকে রক্ষা করা হয়। এই বিষয়টা নিয়ে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বার্তায় ইসলামী ইমারাতের নেতা স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছে। সম্মানিত নেতা (হাফিযাহুল্লাহ) মুজাহিদিনকে এই বার্তা দিয়েছেন- “আপনাদের জিহাদি কার্যক্রম অধিক সাবধানতার সাথে করবেন, যাতে করে জনকল্যাণমূলক জায়গাগুলো যেমন হাসপাতাল, কবরস্থান, স্কুল, সেতু, পানি এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক স্থাপনাগুলোর ক্ষতি না হয় বরং তা রক্ষা করা।“।

এই সকল নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষে, ইসলামী ইমারাতের আমির শক্তি কেন্দ্রগুলিতে বারবার পর্যবেক্ষণ দল পাঠান। একই সাথে ইসলামী ইমারাত জনকল্যাণমূলক স্থাপনাগুলোর পুনর্নির্মাণ ও উন্নয়নের জন্য এন জি ও কমিশন গঠন করেছে। তার উপর সামরিক কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোর সাথে একটি আলাদা বিভাগ যোগ করেছে, যার লক্ষ হচ্ছে বেসামরিক হতাহত রোধ করা। এইসবই বাস্তব এবং কোন ভুয়া দাবি নয়। এর কারন হচ্ছে ইসলামী ইমারাতের মুজাহিদিন জনগনের মধ্যেই বাস করে। জনগণের মন মস্তিষ্ক জয় করাই তাদের জিহাদি কৌশলের একটি অংশ। তাদের টিকে থাকা কাবুল প্রশাসনের মত বিদেশী টাকা ও অস্ত্রের উপর নির্ভরশীল নয়

এইসব এখন পুরনো কথা।  যখন কাবুল প্রশাসন তাদের জন বিরোধী কাজক্রমগুলো কে ইসলামী ইমারাতের মুজাহিদিনের উপর চাপিয়ে দিত এবং তা গণমাধ্যমে প্রচার করতো। এখন জনগন জানে যে দখলদার ও তাদের দোসরদের বর্তমান যুদ্ধ শুরু থেকেই মিথ্যা ও সত্যকে বিকৃত করার উপর নির্ভরশীল এবং তা এখনো চলে আসছে। তাই তারা মুজাহিদিনকে মনেপ্রাণে সাহায্য করে যাতে মিথ্যা, দুর্নীতি, অত্যাচার ও বিদেশী দখল বন্ধ হয়।


PDF

https://www.pdf-archive.com/2016/09/03/anxiety/

http://document.li/g0m5

http://up.top4top.net/downloadf-2466vt01-pdf.html

exrj4w

https://justpaste.it/xzph

https://jpst.it/MZ8t