জিহাদ-জঙ্গিবাদ: অপব্যাখ্যা ও বাস্তবতা – মুজাহিদ আবু ইয়াহইয়া হাফিজাহুল্লাহ

একটি যুগান্তকারী প্রবন্ধ

জিহাদ-জঙ্গিবাদ: অপব্যাখ্যা ও বাস্তবতা

– মুজাহিদ আবু ইয়াহইয়া হাফিজাহুল্লাহ

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বরং গোটা মুসলিমবিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত যে ইস্যু, তা হল- সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ। অবশ্য সবদেশের পরিভাষা এক নয়। পশ্চিমা দেশগুলোতে বলে- ‘টেররিজম’। আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে এটাকে বলে- ‘ইরহাব’। পাক-ভারতে এ ইস্যু— দ্যাহশাত গারদী, আতংবাদ, ইন্তেহাপছন্দী, মানসুবাবন্দী ইত্যাদি শব্দে পরিচিত ও প্রচলিত। আমাদের দেশে এর অবশ্য ভিন্ন আরো কিছু নাম আছে। এই যেমন— চরমপন্থা, ধর্মান্ধতাবাদ, উগ্র ধর্মান্ধতাবাদ, মৌলবাদ, উগ্রবাদ; আরো ব্যাপকভাবে বলতে গেলে- স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী, একাত্তরের চেতনাবিরোধী ইত্যাদি। কিন্তু আসলে এই সবের দ্বারা উদ্দেশ্য কী? মানে, এগুলোর মেসদাক ও মাকসাদ কী?  এক কথায়, এই সবের লক্ষ্য বা টার্গেট কী? কী-বা বোঝানো হয়ে থাকে এই ধরনের শব্দ-পরিভাষা ব্যবহার করে? যা বুঝানো হয়ে থাকে তার পরিধি বা ব্যাপকতা কতটুকু? আন্তর্জাতিক পরিসরে তথা, কুফফার-তাগুত বিশ্বমোড়লদের কাছে এই সবের ব্যাখ্যা কী? আমাদের মধ্যে একদল সুবিধাবাদী, ভীরু, কাপুরুষ মৌলভী যে  আভিধানিকভাবে এগুলোর নানা রকমের ব্যাখ্যা সর্বসাধারণ মুসলমানদের গিলাতে চাচ্ছে এদেশের সরকার-প্রশাসন বা আন্তর্জাতিক মোড়লদের কাছে সেগুলোর যথার্থটা কতটুকু? এইসব সমাচারই এখনকার সময়ের সবচে’ গুরুত্ববহ বিশ্লেষণের দাবি রাখে। যেহেতু আমরা মুসলমান। আর মুসলিম মাত্রই যেকোন পরিস্থিতি বা ঘটনার বিশ্লেষণ কুরআন-সুন্নাহ তথা, শরীয়াহ’র আলোকে করা আবশ্যক। তবেই আমাদের পর্যালোচনা হবে নির্ভেজাল। বিশ্লেষণ হবে নির্ভরযোগ্য। তাহলে এবার বাস্তবসমীক্ষার নিরিখে ও শরীয়াহ’র আলোকে ধাপে ধাপে প্রতিটি পয়েন্টের বিশ্লেষণ করা যাক।—

প্রথমত: আভিধানিক ব্যাখ্যা। ‘জঙ্গীবাদ’ শব্দটিই নিয়েই যেহেতু আমাদের দেশে এখনকার মাতামাতি, তাই প্রথমত এটারই ব্যাখ্যা করা যাক। ‘জঙ্গ’ শব্দটি ফার্সি। উর্দু ভাষাতেও এটির ব্যবহার ব্যাপক। অর্থ– যুদ্ধ, লড়াই, রণ। সেমতে ‘জঙ্গি’ মানে, যুদ্ধবিষয়ক, যোদ্ধা, লড়াই সংক্রান্ত ইত্যাদি। যেমন, প্রচলন আছে- ‘জঙ্গে আযাদী’- স্বাধীনতার যুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ। আমাদের দেশের ‘৭১এর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস উর্দুভাষায় এ শব্দেই বিবৃত হয়েছে।

এরচে’ বড় কথা হল, ইসলামের ইতিহাসের বিখ্যাত যুদ্ধ সমূহ যথাক্রমে ‘জঙ্গে বদর’, ‘জঙ্গে ওহুদ’, ‘জঙ্গে হুনাইন’ এভাবে ‘জঙ্গে জামাল’, ‘জঙ্গে সিফফিন’ নামেই খ্যাত। তাছাড়া আমাদের দেশের পত্র-পত্রিকাতেও যুদ্ধবিমানকে ‘জঙ্গিবিমান’ লেখার প্রচলন রয়েছে। ইংরেজির ‘টেররিজম’, আরবির ‘ইরহাব’ কিংবা উর্দু-ফার্সির ‘দ্যাহশাত গারদী’ অথবা বাংলার ‘সন্ত্রাস’ এর বস্তুনিষ্ঠ ব্যাখ্যা করতে গেলে প্রথমে দেখতে হবে এই ত্রাস, আতঙ্ক বা ভয়ভীতি সৃষ্টি কার পক্ষ থেকে এবং কার জন্য? উদাহরণস্বরূপ, একজন অপরাধী (চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, নেশাখোর) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখলেই ভীত-সন্ত্রস্ত হয় । আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সুতরাং তার দৃষ্টিতে পুলিশ সন্ত্রাসী। কারণ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই করাই ওদের একমাত্র পেশা ও জীবিকা উপার্জনের মাধ্যম। এ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশের অভিযান-এ্যাকশনের মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করা অন্যায়। তেমনি দেশদ্রোহী এবং বহিরাগত হানাদার শত্রুবাহিনীর দৃষ্টিতে সামরিক বাহিনীর সদস্যগণ সকলেই একেকজন ভয়ানক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। কাজেই বুঝা গেল,এসব ব্যাপার আভিধানিকভাবে বিশ্লেষণ করতে গেলে সবই আপেক্ষিক বিষয় মনে হবে। থাকলো মৌলবাদ, চরমপন্থা, ধর্মান্ধতাবাদ এবং উগ্র ধর্মান্ধতাবাদ। এ ব্যাপারে একটু খোলাসা করে বলতে গেলে এভাবে বলতে হয়– যেকোন মতবাদ, মতাদর্শ কিংবা ধর্ম (চাই তা সত্য হোক বা মিথ্যা) প্রতিষ্ঠা লাভ করতে হলে এবং তা সদর্পে টিকে থাকতে হলে এর জন্য প্রধান যে পূর্বশর্ত তা হল, সে ধর্ম কিংবা মতাদর্শের লোকেরা নিজ নিজ ভাবাদর্শ ও ধর্মমতের উপর অটল ও অবিচল থাকবে। জীবনে-মরণে সর্বক্ষেত্রে পুঙ্খানুপুঙ্খ সেই মতাদর্শের অকুণ্ঠ অনুসরণ-অনুকরণ করবে। ধর্মের মূলনীতি ও আদর্শ ব্যতীত কোনো পদক্ষেপই তারা গ্রহণ করবেনা। এক কথায় স্বীয় ধর্মের তরে তারা হবে নিবেদিতপ্রাণ। ধর্ম অনুসরনের এই যে চিত্র, ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করতে গেলে এটিকেই বলা হয়- রক্ষণশীল ধার্মিকতা, ধর্মভীরুতা ইত্যাদি। এমন ব্যক্তিকে বলা হয়, ধর্মপ্রাণ মানুষ। আর এ বিষয়টিই ধর্মবিরাগী কিংবা ধর্মবিদ্বেষী যে কেউ অবমূল্যায়ন করে বলবে- মৌলবাদ, চরমপন্থা, ধর্মান্ধতাবাদ এবং উগ্র ধর্মান্ধতাবাদ (!)। আশা করি, বিষয়টি অনেকখানি খোলাসা হয়েছে। এ তো গেল বিস্তারিত আভিধানিক বিশ্লেষণ। কিন্তু শক্তির সামনে যুক্তি যতটা অসহায়, হলুদ সাংবাদিকতার সামনে  

ঘটনার বাস্তবচিত্র যতখানি নিরুপায় ; সরকার-প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক কুফফার-তাগুত দুনিয়ায় এইসব আভিধানিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এরচে’ অনেক বেশি ঠুনকো ও নিরুপায়। অতএব, বাস্তবতার নিরিখে বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা হওয়া উচিত। একটি বিষয়ে তো কারো কোনো দ্বিমত থাকার কথা নয় যে, এ দুনিয়ায় সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্ব, হক-বাতিলের লড়াই ও ন্যায়-অন্যায়ের সংঘাত চিরন্তন ও শাশ্বত। সুতরাং, কেয়ামত-মহাপ্রলয় তথা, এ পৃথিবী ধ্বস হওয়ার আগ পর্যন্ত এ সংঘাত, এ লড়াই চলতেই থাকবে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন- ‘যারা ঈমানদার তারা লড়াই করে আল্লাহর পথে আর যারা কাফের তারা লড়ে তাগুতের পথে। সুতরাং, তোমরা যুদ্ধ কর শয়তানের সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে।’ অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে- ‘তারা (কাফের-মুশরিকরা) তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেই থাকবে, যাবৎ না তারা সক্ষম হলে তোমাদেরকে তোমাদের ধর্ম থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে।’ আরো বলা হয়েছে- ‘ইয়াহুদ-নাসারাগণ আপনার প্রতি ততক্ষণ পর্যন্ত সন্তুষ্ট হতে পারবেনা, যতক্ষণ না আপনি তাদের ধর্ম-আদর্শ অনুসরণ করেন।’ আবার মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। আসলে জঙ্গীবাদ জঙ্গিবাদ ধোঁয়া তুলে ওরা কী বলতে চায়, কী বুঝাতে চায়? যদি এর দ্বারা ওরা ধর্মের নামে নির্বিচারে নিরীহ, বেসামরিক মানুষ হত্যা করা বুঝিয়ে থাকে, তাহলে প্রথমত  ওদের উদ্দেশে প্রশ্ন থাকবে- একমাত্র (ইসলাম) ধর্ম ছাড়া বাকি যেকোন কারণে, যেকোন ধর্ম কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে ‘মানুষ’ হত্যা করা ওদের দৃষ্টিতে বৈধতা পাবে কি-না? যদি বৈধতা পেয়ে থাকে তবে একমাত্র ইসলাম ধর্মের নামে কাউকে হত্যা করলেই সেটা ‘জঙ্গীপনা’ হয়ে যাবে কেন? দ্বিতীয় কথা হল– (যেটা বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধের সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ কথা) ইসলাম শুধু ‘মানুষ’ হিসেবে কারো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা মুলতবি করেনা। তাছাড়া ইসলামী শরীয়তে ‘সামরিক’/বেসামরিক বলে কথা নেই। শরীয়তের দৃষ্টিতে মানুষ প্রধানত: দু’ভাগে বিভক্ত। মুসলিম ও কাফের। মুসলিম পরিচয় বহনকারীরা আবার দুই প্রকারে বিভক্ত। মু’মিন ও মুনাফিক। যারা কাফের তাদেরকে শরীয়ত পাঁচ ভাগে বিভক্ত করে। মুরতাদ, আহলে কিতাব (ইয়াহুদ-নাসারা), মুশরিক, মুলহিদ, যিন্দিক। শেষোক্ত চারপ্রকারের কাফেররা আবার হত্যাযোগ্য হওয়া না হওয়া হিসেবে প্রধানত দু’ভাগে বিভক্ত : মুআ’হাদ (যিম্মী), মুহারিব ( হারবী) ।  

সুতরাং, মানুষের প্রকার ও ধরন হিসেবে প্রত্যেক শ্রেণির সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বা সংঘাত ও লড়াইয়ের বিধান ভিন্ন ভিন্ন হবে। এ তো হল ইসলামী শরীয়াহর দৃষ্টিতে ‘মানুষ’ হত্যার বিধানের খোলাসা কথা। তবে ওরা যেভাবে এবং যে অর্থে মুসলমানদের উপর ‘জঙ্গীবাদে’র অভিযোগ আরোপ করে তাদের বিভ্রান্ত করতে চাইছে ওই দৃষ্টিকোণ থেকে নিরপেক্ষ যাচাই ও বিশ্লেষণ করলে যে তথ্য বেরিয়ে আসে তা রীতিমত রোমহর্ষক ও মর্মান্তিক বললেও নেহাৎ কম হবে। এবারে তাহলে কাফের-মুশরিক কর্তৃক বিশ্বব্যাপী (মুসলিম) গণহত্যার একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা করা যাক।

/ ৯০ এর দশকের শুরুতে সৌদি আরবের স্বার্থে আমেরিকা পরিচালিত উপসাগরীয় যুদ্ধে আরোপিত অবরোধের কারণে না খেয়ে মারা যাওয়ার শিশুর সংখ্যা দশ লক্ষাধিক।

৯/১১ পরবর্তী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শান্তিকামী অ্যামেরিকা এবং তার মিত্ররা ৪০ লক্ষ মুসলিম হত্যা করেছে।

এর আগে নব্বইয়ের দশকে আমেরিকা কর্তৃক ইরাকের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে অনাহারে মারা যায় প্রায় ১০ লক্ষ মুসলিম শিশু “সন্ত্রাসী”

http://www.mintpressnews.com/do-the-math-global-war-on-terror-has-killed-4-million-muslims-or-more/208225/

http://www.nytimes.com/1995/12/01/world/iraq-sanctions-kill-children-un-reports.html

http://www.globalresearch.ca/us-sponsored-genocide-against-iraq-1990-2012-killed-3-3-million-including-750000-children/5314461

/ বসনিয়াতে মাত্র ৩দিনে ৮৩৭২ জন মুসলিম হত্যা করে সার্বিয়ান খ্রিস্টানরা(আন্তর্জাতিক হিসাব মতে, মূল সংখ্যা আরও বেশী)।

জাতিসংঘ ঘোষিত প্রথম নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত বসনিয়ার সেব্রেনিতসায় সংঘটিত এ গণহত্যা সরাসরি আমেরিকা ও জাতিসংঘের মদদে পরিচালিত হয়।

# সুত্রঃ  A Cry From The Grave, BBC নির্মিত ডকুমেন্টরি

/ শুধুমাত্র সিরিয়াতে হত্যা করা হয়েছে ৫ লক্ষাধিক মুসলমান। সিরিয়াতে কাফির নুসাইরি শাসক বাশার আল আসাদের মিত্র হিসেবে কাজ করছে আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ইরান, লেবানন, সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও অন্যান্য আমেরিকান দালাল দেশ যাদেরকে মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয় দিয়ে অজ্ঞ মুসলিমদের ধোকা দিয়ে থাকে কাফির মিডিয়াগুলো।

রাশিয়ান টিভি চ্যনেলগুলোতে আবহাওয়া ভালো থাকলে উপস্থাপক রাশিয়ান সেনাদের আহ্বান জানায় অধিক হারে বোমা হামলা করতে।

/ ইয়েমেন সৌদি বিমান হামলায় কয়েক হাজার নিরীহ মুসলমান নিহত হয়। শিয়া দমনের নামে সুন্নিদের উপর চালানো এই নির্মম গণহত্যা চাপা পরে যায় সৌদি দালাল আলেমদের মিথ্যা ফতোয়ার কারণে।

বাংলাদেশে মতিউর রহমান মাদানি, আবদুল্লাহ শাহেদ মাদানি সহ অনেকে ইয়েমেনে সৌদির গণহত্যাকে সরাসরি সমর্থন জানিয়েছে। গোটা বিশ্বব্যাপীই সৌদি বেতনভোগী আলেমরা সৌদি তাগুত শাসকদের অপরাধের সাফাই গেয়েছে।

এছাড়াও ৯০ এর দশকে প্রথমবারের মত আল্লাহ’র রাসুল (সা) এর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কাফির আমেরিকাকে যুদ্ধঘাটি নির্মাণের অনুমতি দেয়। এবং তৎকালীন গ্র্যান্ড মুফতি এর বৈধতা দান করে।

যে আলেমরাই এর বিরোধিতা করেছিল তাদের সকলকেই হত্যা অথবা বন্দী করা হয়। শায়খ উসামা বিন লাদিন (রহ)’র জাতিয়তা কেড়ে নেয়া হয় কেবলমাত্র “জাজিরাতুল আরবে কাফিরদের উপস্থিতি”র বিরোধিতা করার কারণে।

এছাড়াও সৌদির অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম শায়খ হামুদ বিন উক্কলা আশ শুয়াইবি (রহ) কে হত্যা করে সৌদি তাগুত গোষ্ঠী। বন্দী করে শায়খুল আল্লামা সুলাইমান আল উলওয়ান, আলি বিন খুদাইর আল খুদাইর, নাসির বিন হামদ আল ফাহাদ সহ আরও অনেককেই।

/ আফগানিস্তানে ২০০১ এর অক্টোবরে আক্রমণের পর ন্যাটো জোটকে সাথে নিয়ে আমেরিকা এখন পর্যন্ত পাঁচ লক্ষাধিক মুসলমান হত্যা করেছে। ইতালি ন্যাটো জোটের অন্যতম সদস্য।

/ ইরাকে ২০০৩ এর পর কয়েক লক্ষ মুসলমান হত্যা করে আমেরিকা-ইরান-ইরাকি শিয়া জোট।

/ সোমালিয়াতে কেনিয়া, আফ্রিকান ইউনিওন, ইথিওপিয়া, উগান্ডা মিলে হত্যা করেছে অসংখ্য মুসলমানকে। সাক্ষাৎ মোসাদ সেখানে কেনিয়ান সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

দেখুন – আল জাজিরার ডকুমেন্টরি – Inside Kenya’s Death Squad. ইউটিউবেই পাবেন।

/ বার্মাতে মুসলিম নিধন সবারই জানা। প্রায় ৬ লক্ষাধিক মুসলমান নারীকে যৌনদাসী বানিয়েছে নাপাক বৌদ্ধ রাখাইনরা। অথচ পাশের দেশ বাংলাদেশে আছে ১৬ কোটি মুসলমান!! ইন্না লিল্লাহ।

বিস্তারিত বিবরণ – http://time.com/4089276/burma-rohingya-genocide-report-documentary/

/ সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে খ্রিস্টানরা প্রকাশ্যে দিনের আলোটে মুসলমানদের হত্যা করার পর লাশ চিবিয়ে খেয়েছে। মিডীয়াতেও এসেছে। ইন্টারনেটে খুজলেই পাবেন।

১০/ মালিতে ফ্রান্স ২০১৩ সালে বিনা উস্কানিতে হামলা করে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মুসলিমকে হত্যা ও বন্দী করেছে। সেখানে ১০-১২ বছরের মেয়েদেরকেও খাবার ও পানি দেয়ার কথা বলে ধর্ষণ করেছে। বেশীদিন আগের খবর না। খুজলেই পাওয়া যাবে।

এছাড়াও ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, লিবিয়া, ভারত, বার্মা, নাইজেরিয়া, চীনের জিংজিয়াং প্রদেশ, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান সহ ইউরোপের সকল দেশে আজ মুসলিমদের উপর হচ্ছে নির্মম অত্যাচার। ইউরোপ-আমেরিকার জেলগুলোতে বিনা বিচারে পচে মরছে অসংখ্য আলেম-উলামা ও ইসলামের দা’ঈরা।

তাছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি গবেষণা সংস্থা কাউন্সিল অব ফরেন রিলেশন (সিএফআর) এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী- ২০১৫ সালের প্রথম দিন থেকে শেষদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মুসলিমবিশ্বে ২৩ হাজার ১৪৪টি বোমা বর্ষণ করেছে। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট ফেলেছে ২৮ হাজার ৭১৪টি বোমা। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বাকি দেশগুলোর ফেলা বোমার সংখ্যা ৫ হাজার ৫৭০টি। হামলার ৭৭ শতাংশই চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একাই।

তবে এটি সামগ্রিক চিত্র নয়। কারণ চালক বিহীন ড্রোন হামলা বাদ দিয়ে এটি শুধু সরাসরি বোমা হামলার চিত্র। ড্রোনের সংখ্যা ধরলে এ সংখ্যা আরো বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। মুসলিমপ্রধান কয়েকটি দেশে এসব বোমা ফেলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি গবেষণা সংস্থা কাউন্সিল অব ফরেন রিলেশন (সিএফআর) এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী- ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইয়েমেন এবং সোমালিয়ায় এসব বোমা ফেলা হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে শুধু যুদ্ধকবলিত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক-সিরিয়াতেই ফেলা হয়েছে ২০,০০০টি বোমা।

যে পরিমাণ বোমা ও বোমা সরঞ্জাম ফেলা হয়েছে তা লাখ টনকেও ছাড়িয়ে গেছে। আর এসব বোমার কুপ্রভাব মুসলমানদের দীর্ঘমেয়াদে ভোগ করতে হবে। কারণ এসব বোমার তেজস্ক্রিয়তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম থেকে যাবে এবং পরবর্তী মুসলিম প্রজন্মের জন্য অভিশাপ হয়ে থাকবে।.

কাউন্সিল অব ফরেন রিলেশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মিশা জেনকো বলেছে, ‘২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ছয়টি মুসলিম দেশে এসব বোমা হামলা চালিয়েছে যার মধ্যে ২২ হাজার ১১০ বোমা ফেলা হয়েছে ইরাক ও সিরিয়ার মাটিতে, ৯৪৭টি আফগানিস্তানে, ৫৮টি ইয়েমেনে, ১৮টি সোমালিয়ায় এবং ১১টি পাকিস্তানের মাটিতে ফেলা হয়েছে।’

ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইয়েমেন এবং সোমালিয়ায় মার্কিন বোমা এবং বিমানের আঘাতে লক্ষ-লক্ষ মুসলমান শহীদ হয়েছেন। মুসলমান নর-নারী এবং শিশুদের তাজা রক্তে মধ্যপ্রচ্যে রক্তের বন্যা প্রবাহিত হয়েছে। মুসলমান নারী শিশুদের কান্নায় আসমান-যমীন কাঁদছে। কিন্তু কেন? কি অপরাধে মুসলমানদের তাজা রক্তের জন্য হিংস্র হায়েনার চেয়েও হিংস্র হয়েছে ইহুদী, নাছারা, কাফির, মুশরিকরা?

অন্যদিকে গতকাল (২৭/০৮/১৬) মানবিজে বোমা হামলা চালিয়ে ১৬০ জনের বেশি মুসলিমকে অ্যামেরিকানরা হত্যা করেছে। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

সারা পৃথিবীতে প্রায় ৯৫% সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে যাচ্ছে অ্যামেরিকা-ইস্রাইল-ইউরোপ- ভারত। মুসলিম ১০ জন কাফির হত্যা করলে মিডিয়া ১০ দিন সেটা নিয়ে টানা রিপোর্ট করছে। কিন্তু দিনের পর দিন কাফিররা শত শত মুসলিমকে হত্যা করা যাচ্ছে এ নিয়ে মিডিয়া চুপ। বুদ্ধিজীবিরা চুপ, শান্তির সবক দিতে আসারা চুপ।

এবার দেখুন, পার্শ্ববর্তী দেশ কাশ্মীরের অবস্থা—

APDP এর তথ্য অনুসারে ১৯৮৯ সালের জানুয়ারী থেকে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্তঃ

নিহত- ৯৪,৪৩৫ জন

পুলিশ/আর্মি হেফাজতে মৃত্যু- ৭,০৪৬ জন

গুমের কেস- ১০,০০০

গণধর্ষণ- ১০১,১৮১

বিধবা- ২২,৮১৩ জন

অর্ধবিধবা (যাদের স্বামীদের ধরে নিয়ে গেছে,

আর কোন খবর পাওয়া যায়নি) – ৪,০৩৬ জন

ইয়াতীম- ১০৭,৫৬৬ জন

বেসামরিক নাগরিক গ্রেফতার- ১৩৪,১১৫ জন

ঘরবাড়ী ধ্বংস- ১০৬,০৬৪ টি।

এ ক্ষেত্রে ইসলাম কী বলে? আলকুরআন কী বলে? দেখুন, কত সুস্পষ্ট নির্দেশনা!  ইরশাদ হয়েছে- ‘তারা (কাফের-মুশরিকরা) তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেই থাকবে, যাবৎ না তারা সক্ষম হলে তোমাদেরকে তোমাদের ধর্ম থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে।’ আরো বলা হয়েছে- ‘ইয়াহুদ-নাসারাগণ আপনার প্রতি ততক্ষণ পর্যন্ত সন্তুষ্ট হতে পারবেনা, যতক্ষণ না আপনি তাদের ধর্ম-আদর্শ অনুসরণ করেন।’ কুরআন আরো বলছে- ‘যাদের সাথে লড়াই করা হচ্ছে , তাদেরকে জিহাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে; যেহেতু তারা নিপীড়িত। অন্যত্র আরো সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ এসেছে। ‘কাফেররা চায়, যেন তোমরা তোমাদের অস্ত্রসস্ত্রের ব্যাপারে গাফেল থাকো, যার ফলে তারা তোমাদের একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে।

আর কাফেরদের স্বভাবই তো হল নিজেরা সর্বত্র বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সংস্কার সংশোধনকামী মুসলিমদের উপর ফেতনা-ফাসাদ ছড়ানোর অভিযোগ তোলা। যেমনটা ফেরাউন করেছিল মূসা আ.এর ব্যাপারে। কুরআন তো এ ক্ষেত্রে বলে– ‘সুতরাং যারা তোমাদের প্রতি সীমালঙ্ঘন করে, তোমরাও তার প্রতি তদ্রূপ সীমালঙ্ঘন কর যেরূপ সে তোমাদের প্রতি সীমালঙ্ঘন করেছে।’

আজকে পিঠ বাঁচাতে হুজুর, আল্লামা সবাই-ই নেমে পড়েছি জঙ্গীবাদ নিয়ে.. বিশাল বিশাল মিছিল করে জানান দিচ্ছি আমরা জঙ্গীবাদ চাই না। ভালো কথা..! কিন্তু যখন এদেশের ৫০ পার্সেন্ট মানুষ জঙ্গীপনা জিনিসটাই বুঝে না! তারা এখনও ভাবে শব্দটা সম্ভবত জংলী!! অথচ ওইদিকে আইএসীয় জঙ্গীবাদকে ঢাল বানিয়ে পেছন দরজা দিয়ে অন্য কিছু করার চেষ্টা হচ্ছে কি না সেটা দেখার দায়িত্ব কাদের..?? তার ব্যাপারে কিছু বলছে না কেউ-ই!! আমরা আইএস কে মোটেই সমর্থন করার কথা বলছিনা। তবে ব্যাপার হল- আন্তর্জাতিক কুফফারবিশ্ব এবং তাদের অনুসারী আমাদের সরকার, প্রশাসন আইএস, আল-কায়েদা, আর তালেবানের মাঝে কোনোই ফারাক করেনা। সবই তাদের দৃষ্টিতে জঙ্গী সংগঠন। সন্ত্রাসী সংগঠন। আমার আপনার মত মৌলভী-মওলানাদের তাহকীক আর বিশ্লেষণ মাথায় নিয়ে তারা জঙ্গীদমন অভিযানে নামে নাই। তাদের কাছে মূলত, জঙ্গিবাদ মানেই জিহাদ, আর জিহাদ মানেই জঙ্গীবাদ। এই কারণেই দেখেন না কীভাবে মসজিদ, মাদ্রাসা, ইসলামী লাইব্রেরী সমূহের উপরে কেমন কড়া নজরদারী চলছে। মূলত : জঙ্গীবাদ, আতংবাদ, টেররিজম, ইরহাব, ইন্তেহাপছন্দ, মানসুবাবন্দী এসবই এক ক্যাটাগরির শব্দ। মা’না, মুরাদ সবই একটাই এবং সেটি দ্ব্যর্থহীনভাবে ‘জিহাদ’ এর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এছাড়া অন্য কোনরকম হত্যা, খুন, গুম, সন্ত্রাস এমনকি তাদের পরিচালিত ও নেতৃত্ব দেয়া কোনো গণহত্যার বেলায়ও এসব শব্দ আন্তর্জাতিক পরিভাষায় প্রযোজ্য নয়। একসূত্রে জানা গেছে- বাংলাবাজারের প্রত্যেকটা প্রকাশনীকে তাদের প্রত্যেকটা বইয়ের তালিকা তথ্য মন্ত্রণালয়ে দেয়ার জন্য জোর নির্দেশ দিয়েছে। তারা সেখানে বইগুলো চেক করে দেখবে। জঙ্গীপনা খুঁজে বের করবে! আসলে এসব ক্ষেত্রে বিশেষ টেনশন ও উৎকণ্ঠার কিছু নেই। এমনটা সিরিয়া, মিসরে আরো বহু আগেই ঘটেছিল। এসব মূলত কোনো জনপদ ও ভূখণ্ডে মুসলিম উম্মাহ জেগে উঠার একটি নিদর্শন এবং  

স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আমি অত্যন্ত অবাক হয়েছিলাম, যখন বাংলাদেশে দাওয়াত-তাবলিগের সুবাদে সফরে আসা এক সিরিয়ান আলেম থেকে জানতে পেলাম- বিশ্বনন্দিত আরবী সাহিত্যিক, বিশিষ্ট ইসলামী সমাজ সংস্কারক শাইখ আলী তানতাভী রহ. – যার ব্যাপারে শাইখুল আদাব আল্লামা নূর আলম খলীল আমীনী বলেছেন- ‘ওহ তো আরাব কে থানভী থে’; তাঁর রচিত কিতাবাদী নাকি সিরিয়াতে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ! তাঁর রচনাবলীতে নাকি জঙ্গিবাদের উস্কানি আছে! এই অভিযোগে। আমি তো শুনে বললাম, আরে আমাদের দেশের ঢাকার অভিজাত লাইব্রেরিগুলিতে তো এখনো তাঁর বইয়ের মেলা কদর। পাওয়াও যায় অ্যাভেইলেভেল! শুনে বেচারা খুব আক্ষেপ করল। এটা আজ থেকে আরো পাঁচ বছর আগের কথা। তখনই মনে হয়েছিল – এরকম পরিস্থিতি আমাদের দেশেও সৃষ্টি হতে পারে কোনো একসময়। দেখুন, জাকির নায়েক কোনো ইস্যু ছিলেন না। তৈরি করা হয়েছিল। একজন জাকির নায়েক বা একটি পিসটিভি মুখ্য ছিলনা। আদিষ্ট লক্ষ্য-দৃষ্টি ছিল অন্যকিছু এবং সেটাই ছিল মুখ্য। কী ছিল সেটা? রামপাল-বাণিজ্যের পর সেটা কি একটু পরিষ্কার হল? মন্দিরের পাশের ডোবায় অস্ত্রের খনি পাওয়ার পর মনিটরিং এর ফরমান জারি হয় মসজিদের খুতবায় ! আরেকটু কি ক্লিয়ার হল? যদি হয়, তাহলে তো ভালই। আর না হলে আবেগের ঘোড়ায় হুজুগের লাগাম ধরে যেদিকেই দৌড়ানো হোক, সামনে শুধু আস্তাবলেরই খোঁজ মিলবে। কায়া যা করে, ছায়াও তাই করে। ভারতে পিস টিভি নিষিদ্ধ করার সংবাদ ভারতের সকল মানুষ জানার আগে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হল। আমাদের আপন শ্রেণির একটি অংশ খুশি হলেন। আমি জানিনা— ইতোমধ্যেই কাহিনী তাদের কাছে ক্লিয়ার হয়েছে কি-না ? নাকি আরো কিছু হারানোর পর হবে ? রামপাল গেছে। জুমার নামাযের স্বাধীনতা গেছে। আর কি কি গেলে তারা বুঝবেন, কী ঘটছে দেশে আর কেনো ঘটানো হচ্ছে?!

অবশেষে এদেশের একদল ভীরু, কাপুরুষ ও সুবিধাবাদী ওলামাদের উদ্দেশ্যে জনৈক মাওলানা আবদুল্লাহ মায়মুনের ভাষায় বলব- আপনারা তাদের জন্যে লক্ষাধিক আলেমের ফতোয়া সংগ্রহ করুন, বিক্ষোভ-মিছিল করুন, মানববন্ধন করুন! তারপরও তারা আপনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবে না!!!!

প্রতিমন্ত্রী বললো, সাতদিনের ভেতর কওমী মাদরাসা বন্ধ করে দিতে! আমার প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে প্রতিমন্ত্রী এরকম সাহস দেখায়? অথচ এই কওমী জোব্বাধারীরাইতো লক্ষাধিক আলেমের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন, এরাই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মিছিল- বিক্ষোভ করেছেন, এরাইতো নিজেদেরকে নির্দোষ প্রমাণার্থে মানববন্ধন করেছেন, এরাইতো গলা ফাটিয়ে, কী-প্যাড ঝাকিয়ে বলেছেন, ‘কওমী মাদরাসা জঙ্গি নয়, আদর্শ মানুষ তৈরীর কারখানা’? তাহলে এত লম্ফঝম্প কী কাজে আসলো? উনাদের এত দৌড়ঝাঁপ কি একজন প্রতিমন্ত্রীরও বিশ্বাস অর্জন করতে পারলো না? অনেকে বলবেন, এটি একটি কথার কথা, একবার মাদ্রাসায় হাতে দিয়ে দেখুক না কী দাবানল ছড়িয়ে পড়ে! আমরা বলবো, এটি কথার কথা নয়, এটি হচ্ছে ওই প্রবাদের বাস্তবতা- ‘দেখলে মশকারী, না দেখলে চুরি’! অন্য কথায়, ‘প্রতিবাদ করলে কথার কথা, নীরব থাকলে বাস্তবতা’।

এই জালিম সরকারের অতীতের টাইমলাইনই তা বলে দিচ্ছে। আরেকদল আছেন, যারা এই জালিমের পুলিশবাহিনীর সাথে ছবি তুলে প্রোপিক বানাচ্ছেন। তাদেরকে বলবো, অবরোধের পুর্বে অনেকে পুলিশকে কলা-তরমুজ খাওয়াইছিলো, কিন্তু পরে এই পুলিশ কলা খেয়েই আমাদের উপর গুলি করেছে।

আপনাদের এই তোষামোদ নিজেদেরকে টিস্যু পেপার প্রমাণ করা ছাড়া আর কোনো কাজে আসবে না।

হে প্রিয়! নিজেকে আর কত আদর্শহীন খড়কুটা প্রমাণ করলে ওরা আপনাকে বিশ্বাস করবে? মনে রাখুন, আপনারা তাদের জন্যে লক্ষাধিক আলেমের ফতোয়া সংগ্রহ করুন, বিক্ষোভ-মিছিল করুন, মানববন্ধন করুন! তারপরও তারা আপনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবে না!!!!

কারণ এরা হচ্ছে যিন্দীক, নাস্তিক-মুরতাদদের চেলা। এদের কলকাঠি নাড়া হচ্ছে মুশরিক-খৃষ্টান রাষ্ট্রদ্বয়ের রাজধানী দিল্লী-ওয়াশিংটন থেকে। আর এই ইয়াহুদী-খৃষ্টানরা ততক্ষণ পর্যন্ত আপনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না আপনারা তাদের ধর্মকে গ্রহণ করবেন।

… আপনি এদের হাতের খেলনা হওয়ার পূর্বে উম্মাহের পতনের ইতিহাস পড়ুন। পড়ুন স্পেন-বাগদাদ, বোখারা-সমরকন্দের পতনের ইতিহাস। তাহলে দেখবেন, সে যুগেও কিছু উলামায়ে ছু’ ছিলো, ধর্মবিক্রেতা আলখেল্লাধারী ছিলো, এরা নিজেরা মুরগী হয়ে শৃগাল হিংস্র কাফেরদের সামনে সাধু প্রমাণে আপ্রাণ চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছিল, কিন্তু কাজ হয় নি, পরিশেষে ওই শৃগালরাই এদেরকে মুরগীর মতো খেয়েছে। পার্থক্য শুধু এইটুকু যে, উনারা মরেছেন ঠিকই, কিন্তু অপমানের মৃত্যু, দালালীর মৃত্যু।

ইতিহাসে উনাদের স্থান হয়েছে দালালদের তালিকায়, গাদ্দারদের তালিকায়। আর যারা তাদের সাথে আপোষ করে নি, তারাও মরেছে, তবে শহীদী মৃত্যু, ইজ্জতের মৃত্যু, ইতিহাসের তাদের স্থান হয়েছে বীরদের তালিকায়। মনে রাখুন, আল্লাহ আমাদেরকে নিজেদের আদর্শ বিক্রি করে ইসলাম রক্ষার দায়িত্ব দেন নি, বরং সহজ-কঠিন পরিস্থিতিতে ইসলাম পালনের দায়িত্ব দিয়েছেন, সহজ-কঠিন অবস্থায় তার আনুগত্যের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহর অবাধ্য হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে আল্লাহর আনুগত্যের মধ্যে মৃত্যু অনেক শ্রেয়!

….

আল্লাহর আনুগত্যের মধ্যে থাকার কারণে যদি আমাদেরকে কারাগারে যেতে হয়, তাহলে সায়্যিদুনা ইউসুফ আলাইহিস সালামের বলবো, ‘রাব্বি আস-আসিজনু আহাব্বু ইলাইয়্যা’ (হে পরওয়ারদিগার, কারাগার আমার জন্যে প্রিয়) আর যদি কেউ বলে, তোমাকে ক্রসফায়ার করা হবে, তোমাকে টুকরো টুকরো করা হবে, তাহলে হযরত খুবাইব রাজিয়াল্লাহু আনহু’র মতো বলবো, ‘আমি আমার শত্রুর সাথে কখনো বিনম্রতা প্রকাশ করবো না, আমাকে যে পার্শ্বে চিৎ করে হত্যা করা হোক না কেনো?’ আমরা মুহাম্মদের দীনের ওয়াফাদার সিপাহী, ইসলাম ও আজমতের নিগাহবান সিপাহী। বাতিলের প্রভুত্ব কখনো মেনে নিব না। মরে যাবো, তবুও দীনকে পণ্য হতে দিব না। সুতরাং কেউ যদি বলে, এই জালিমের বিরুদ্ধে সামান্য কোমল হলে কেমন হয়? তখন সায়্যিদ কুতুব শহীদের মতো জবাব দিব, ‘যে আঙুলগুলো প্রতিদিন পাঁচবার আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দেয়, এগুলোর জন্যে অসম্ভব কোনো জালিমের বিরুদ্ধে সামান্য পরিমাণ দয়া প্রদর্শন করা’। মৃত্যু তো একটাই, সে মৃত্যু যেনো শহীদী মৃত্যু হয়!

 

জানি, এতটুকুন পড়ার পর আমাদেরকে কেউ বলবেন, ‘আবেগী’, কেউ বলবেন, ‘অপরিণামদর্শী’! তখন আমাদের জবাব একটাই হবে, আমরা কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরওয়া করি না। আমাদেরকে যদি কেউ আবেগী বলে, এতে সমস্যা কী?

আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তো একদল বুদ্ধিজীবী পাগল বলেছে। আমরা তো সেই নবীরই উম্মত, তাহলে কেনো নিন্দুকের নিন্দায় হাত গুটিয়ে নেব? সুতরাং শেষ পরিণতি দেখার জন্যে তোমরা অপেক্ষা করো, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় আছি। নিশ্চয় শেষ ফলাফল মুত্তাকীদের জন্যে।

হে আল্লাহ, আমাদেরকে ধৈর্য ধরার তাওফীক দাও! যে কোনো বাতিলের মুকাবেলায় অটল অবিচল থাকার তাওফীক দাও! কথা কাজে মিল থাকার তাওফিক দাও! ইলম অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দাও! এই ইলমকে কাল কিয়ামতের দিন আমাদের বিরুদ্ধে দলীল বানিও না। আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন।

https://www.pdf-archive.com/2016/09/03/jihad/

http://document.li/tIY4

http://up.top4top.net/downloadf-2468vsl3-pdf.html

exrj4w

https://justpaste.it/xzrw

https://jpst.it/MZgy

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s