‘শামের অধিবাসীদের অবস্থা যখন বিপন্ন হবে, তখন তোমাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ থাকবে না।’- এর ব্যাখ্যা

বিসমিহী তাআলা

‘শামের অধিবাসীদের অবস্থা যখন বিপন্ন হবে,

তখন তোমাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ থাকবে না।’- এর ব্যাখ্যা

 

মূল

শাইখ সামী আল উরাইদী হাফিজাহুল্লাহ

অনুবাদ

আব্দুল্লাহ হিন্দুস্তানি হাফিজাহুল্লাহ  

শামের ভুমিকে আল্লাহ তাআলা বিশ্ববাসীর জন্য বরকতময় করেছেন।

ইরশাদ হচ্ছে:

{سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ}

পবিত্র ঐ সত্তা যিনি রাত্রি বেলা নিজ বান্দাকে মসজিদে হারাম থেকে ঐ মসজিদে আকসা পর্যন্ত ভ্রমণ কিরিয়েছেন যার আশেপাশে আমি বরকত নাযিল করেছি।

আরো ইরশাদ হচ্ছে:

{وَنَجَّيْنَاهُ وَلُوطًا إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا لِلْعَالَمِينَ}

আমি তাকে (ইবরাহীমকে) এবং লুতকে উদ্ধার করে ঐ ভুমিতে নিয়ে গেলাম যেখানে আমি বিশ্ববাসীর জন্য বরকত নাযিল করেছি। (এখানে শামের ভুমিই উদ্দেশ্য।) উলামায়ে কেরাম বলেছেন, মক্কা ও মদীনার পর তৃতীয় নাম্বারে মর্যাদাপূর্ণ হল শামের ভুমি। শামের ফযীলত সম্পর্কে বেশ কয়েকটি সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

কয়েকটি হাদীস নিম্নরূপ:

১. ইবনে হাওয়ালা রাযি. বর্ণনা করেন, নবীজী সা. বলেছেন, তোমরা অচিরেই তিন বাহিনীতে বাহিনীবদ্ধ হবে। একটি বাহিনী হবে শামে, একটি ইয়ামানে আরেকটি ইরাকে। ইবনে হাওয়ালা রাযি. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সা. আমি যদি উক্ত সময় পেয়ে যাই, তাহলে আমি কোন বাহিনীর সাথী হবো আমাকে বাতলে দিন। নবীজী সা. বললেন, তুমি শামের বাহিনীর সাথে থাকবে, কেননা শামের ভুমি আল্লাহর কাছে আল্লহর যমীনের পছন্দনীয় ভুমি। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে উত্তম বান্দাদেরকে এ ভুমিতে টেনে আনেন। …. আল্লাহ তাআলা শাম এবং শামের অধিবাসীদের ব্যাপারে নিজে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।’ (সুনানে আবু দাউদ হাদীস নং-২৪৮৩)

২. যায়েদ বিন সাবেত রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন, নবীজী সা. ইরশাদ করেছেন, ‘শামের অধিবাসীদের জন্য সুসংবাদ’ জিজ্ঞেস করা হল কেন হে আল্লাহর রাসূল? নবীজী সা. বললেন, ‘ কেননা রহমানের ফেরেশতাগণ শাম ভুমির উপর নিজেদের ডানা প্রসারিত করে রেখেছে।’ (সুনানে তিরমিযী হাদীস নং-৩৯৫৪)

৩. নবীজী সা. শামের জন্য বরকতের দুআ করেছেন। সহীহ হাদীসে এসেছে হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রাযি. বর্ণনা করেছেন, নবীজী সা. একদা এভাবে দুআ করেছেন, ‘ হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মদীনা, শাম এবং ইয়ামানে আমাদের জন্য বারাকাহ দান করুন।’ (মু‘জামুল আওসাত তবরানী হাদীস নং-২৪৬)

অতীতের অনেক উলামায়ে কেরাম শামের ফযীলত সংক্রান্ত আয়াত-হাদীস সংকলন করে স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করেছেন। মূলত আল্লাহ তাআলা শামের পবিত্র ভুমিকে পৃথিবীর অন্যান্য ভুমির উপর বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। আল্লাহ তাআলা শামের অধিবাসীদের উন্নতি-অবনতি, তাদের সুখ-শান্তি ও দু:খ-দুর্দশাকে গোটা মুসলিম উম্মাহর উন্নতি-অবনতি, সুখ-শান্তি ও দু:খ-দুর্দশার মাপকাঠি নির্ধারণ করেছেন। মুআবিয়া বিন র্কুরা রাযি. থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসে এসেছে, নবীজী সা. বলেছেন, ‘ শামের অধিবাসীদের অবস্থা যখন বিপন্ন হবে, তখন তোমাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ থাকবে না…’ (সুনানে তিরমিযী হাদীস নং-২১৯২)

অতএব এই উম্মাহর উন্নতি-অবনতি শামের অধিবাসীদের উন্নতি-অবনতির সাথে ওঁতপ্রোতভাবে জড়িত। ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে যারা সামান্যতম জ্ঞানও রাখে তাদের কাছে এ বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট।

হযরত হাসান বিন আলী রাযি. যখন মুআবিয়া রাযি. এর সাথে সন্ধি চুক্তি করত খেলাফতের দাবী ত্যাগ করলেন, তখন থেকে নিয়ে প্রায় একশত বছর শামের পবিত্র ভুমি ইসলামী সামরাজ্যের রাজধানী ছিল। ঐ সময় ইসলামের প্রচার-প্রসার এবং বিজয় এত পরিমাণ হয়ে যা অন্য কোনো সময়ে হয়নি। তখনই শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং ব্যবসায়িক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক দিয়ে ইসলাম বিশ্ব সভায় সর্বোচ্চ আসন দখল করে নিয়েছিল। শাম-ই মুসলিম উম্মাহর এসব বিজয় ও সফলতার কেন্দ্রভুমি ছিল।

বন্ধুগণ! নুসাইরী শিয়াগোষ্ঠি শামের হুকুমত ছিনিয়ে নিয়ে শামের পবিত্র ভুমিগুলো ইয়াহুদীদের কাছে হস্তান্তর করার পর, শাম পুনরায় তার গায়ে লেপটে থাকা বে-ইজ্জতী ও অপমানের ধুলা ঝেড়ে ফেলে তার গৌরবময় অতীতের দিকে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। শামের ভুমিতে হক ও বাতিলের মধ্যে এক চুড়ান্ত ফায়সালামূলক যুদ্ধের অবতারণা হয়েছে। এ যুদ্ধের অগ্রনায়ক ছিলেন শহীদ কমাণ্ডার শায়েখ মারওয়ান হাদীদ রহ.। তিনি যখন নুসাইরী হুকুমাতের কুফুরীর ব্যাপারে নিশ্চিত হলেন, তখন তিনি ফতওয়া দিলেন, নুসাইরী শিয়া কাফের গোষ্ঠী মুসলিমদের শাসক হতে পারবে না এবং শাসক হিসাবে বহালও থাকতে পারবে না। তিনি এই কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য শামের মুসলিম বিশেষ করে নিজের অনুসারীদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে লাগলেন। একপর্যায়ে তিনি জিহাদের ফরয দায়িত্ব আঞ্জাম দেয়ার জন্য একটি জিহাদী কাফেলা তৈরি করলেন। অবশেষে তাকে এই অপরাধে (?) জালেম নুসাইরী শিয়াদের হাতে শাহাদাত বরণ করতে হল।

এই নুসাইরী শিয়াগোষ্ঠি যাদের বিরুদ্ধে বর্তমানে এবং অতীতে মুসলিমগণ জিহাদ করেছে এবং করছে, তাদের হুকুম ও অবস্থা উলামায়ে কেরাম স্পষ্টরূপে বর্ণনা করেছেন। ইমাম গাযালী রহ. বলেছেন, ‘ এদের সাথে মুরতাদদের মত আচরণ করা হবে এবং ভুমিকে তাদের থেকে পবিত্র করা ওয়াজিব।’

ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেছেন, ‘ ঐসব গোষ্ঠী যারা নিজেদেরকে নুসাইরী নামে অবহিত করে এবং অন্যসব বাতেনী গ্রুপ ইহুদী নাসারাদের চেয়েও ভয়ংকরতম কুফুরীতে লিপ্ত। বরং তারা অনেক কাফের-মুশরিকের তুলনায় বড় কাফের। এরা ইসলাম এবং মুসলিমদের জন্য যুদ্ধরত কাফেরদের তুলনায়ও বেশি ক্ষতিকর। মুসলিমদের প্রত্যেক শত্রুর সাথেই এরা বন্ধুত্ব করে। খ্রিষ্টানরা মুসলিমদের কোনো এলাকা পদানত করলে ঐ দিনটা তাদের কাছে সব চেয়ে বড় খুশির দিন  হয়।’

আল্লাহর রহমতে শামের পবিত্র ভূমি আজ যে মুবারাক জিহাদ এবং পবিত্র আন্দোলন প্রত্যক্ষ্য করছে, মনে হচ্ছে এসবের মাধ্যমে পৃথিবী তার  বর্তমান সভ্যতা-সংস্কৃতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে আরেক নতুন ইসলামী সভ্যতার দিকে যাত্রার প্রথম ধাপ অতিক্রম করছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন ‘ জয়-পরাজয়ের দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে পরিবর্তন করতে থাকি’।

এক সভ্যতা থেকে আরেক সভ্যতা-সাংস্কৃতির দিকে যাত্রা এবং হক-বাতিলের মাঝে চুড়ান্ত ফায়সালা সহজ সাবলীলভাবে সংগঠিত হয় না। বরং এ সময় প্রচন্ড রকমের ফেতনা, ফাসাদ, যুদ্ধ-বিগ্রহ চতুর দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এসব দ্বারা হক ও হকের ঝান্ডাবাহীদের সারি পৃথক হয়ে যায়। বাতিল পন্থীরা স্পষ্টরূপে চিহ্নিত হয়ে যায়। ঈমানদারদের ঈমানের পরীক্ষা হয়ে যায়।

কথার শেষ পর্যায়ে এসে আমি খবীস নুসাইরী গোষ্ঠীর সাথে জিহাদের ক্ষেত্রে উলামায়ে কেরামের ভুমিকা নিয়ে আলোচনা করতে চাই। উলামায়ে কেরাম আম্বিয়া আ. এর ওয়ারিস। উম্মাহকে পরিচালনা করা, হককে স্পষ্টরূপে বর্ণনা করা এবং তদানুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করাকে আল্লাহ তাআলা উলামাদের উপর ওয়াজিব করে দিয়েছেন। ইতিহাস সাক্ষী যখনই উলামায়ে কেরাম তাদের এই ওয়াজিদ দায়িত্ব পালনের জন্য দাঁড়িয়েছে, তখনই উম্মাহ তাদের পাশে এবং তাদের সন্তান মুজাহিদদের পাশে জড়ো হয়েছে। এর মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য খুব দ্রুত অবতীর্ণ হয়েছে।

তাতারদের বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহর জিহাদের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়েগেছে। ‘শাকহাব’ যুদ্ধে উলামায়ে কেরাম নিজেদের ওয়াজিব ভুমিকায় যখন অবতীর্ণ হলেন (তখন উলামাদের প্রতিনিধিত্ব করতে ছিলেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.) তখন উম্মাহ তাঁদের পাশে এসে দাঁড়াল। তারা নিজেদের সন্তান মুজাহিদদেরকে আপন করে নিল। ফলশ্রুতিতে দ্রুত আল্লাহর সাহায্য নেমে আসল। বর্তমান যুদ্ধের চিত্র একই রকম হবে। যখনই উলামায়ে কেরাম নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে, তখন উম্মাহ তাদের সাথে আসবে এবং মুজাহিদদের পাশে দাঁড়াবে, ফলে আল্লাহর ইচ্ছায় বিজয় এবং নুসরত ত্বরান্বিত হবে ।

হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে তোমার দীনের জন্য জীবিত রাখ এবং তোমার পথে মৃত্যু দান কর। আমীন।

 

 পিডিএফ

৭০৪.২৮ কেবি

https://www.pdf-archive.com/2016/08/23/sham1/

http://document.li/68np

http://up.top4top.net/downloadf-2358z3w2-pdf.html

http://www.mediafire.com/download/tyr8s2pfl5olpaj/sham1.pdf

ওয়ার্ড

৪৮৫.৫৮ কেবি 

http://up.top4top.net/downloadf-235xe3u1-docx.html

http://www.mediafire.com/download/0y84uikn6y0wr1h/sham.docx

exrj4w

https://justpaste.it/xm8f

https://jpst.it/MxSf

প্রকাশনা ও পরিবেশনা

প্রকাশকাল
২৩ আগস্ট ২০১৬ ইংরেজি

আপনাদের নেক দুয়ায় আমাদের ভুলবেননা!

Advertisements

আহলে সুন্নাহর প্রতি হৃদয়ের আহবান- শাইখ আবু মালিক আশ শামী হাফিজাহুল্লাহ

আহলে সুন্নাহর প্রতি হৃদয়ের আহবান

লেখকঃ

শাইখ আবু মালিক আশ শামী হাফিজাহুল্লাহ (জামাল হোসাইন জাইনিয়াহ)             

আমিরঃ জাবহাতুন নুসরাহ (বর্তমান জাবহাতু ফাতহিশ শাম), কালামুন শাখা

 

আলহামদু লিল্লাহ, ওয়াস সালাতু ওয়াসসালামু আলা রাসূলিল্লাহ।

আম্মা বা’দ- আহলে সুন্নাহর অনেক ভাই বিশেষত আমাদের লেবাননের ভাইয়েরা দীর্ঘদিন যাবত কুখ্যাত রাফেজী সংগঠন হিজবুল্লাত এবং তাদের সহযোগী অন্যান্য  রাফেজী সংগঠনগুলোর ব্যাপারে আমাদের যুদ্ধনীতি জানার আগ্রহে আছেন। প্রথম কথা হল- সিরিয়া যুদ্ধে তাদের যুদ্ধাপরাধগুলো কারো কাছেই অস্পষ্ট নয়। সিরিয়ার আহলে সুন্নাহর সাথে তাদের পাশবিক আচরণ, নারী-শিশুদেরকে নির্বাসন, মসজিদ মাদ্রাসা সহ পবিত্র স্থানসমুহের উপর বোমা বর্ষণ, ব্যাপক আকারে হত্যা লুন্ঠন সহ এমন কোন অপরাধ নেই  যা তারা সিরিয়াবাসীর সাথে করেনি।এরপর তারা ‍শুধু এতটুকুতেই ক্ষান্ত থাকেনি, বরং লেবাননে বসবাসকারী আমাদের আহলে সুন্নাহর ভাইদের সাথে এসব আচরণ শুরু করে দিয়েছে । এইতো সম্প্রতি ঘটে যাওয়া তোফাইল জনপদের ঘটনা আমাদের কার অজানা নয় । তারা লেবাননে আহলে সুন্নাহর প্রতিটি অঞ্চলে নিরাপত্তার নামে ভয়াবহ অবরোধ জারী করে রেখেছে । অথচ তারা ভুলে গেছে যে, আহলে সুন্নাহ হল আগ্নেয়গিরীর মত। কেউ যদি তার স্বাভাবিক একটি মুখ বন্ধ করে দেয় তাহলে তা আরো দশটি মুখ ফেড়ে বের হবে। আর যুদ্ধ তো সর্বদা তার আপন গতিতেই চলবে । তাই আমরা বর্তমান পরিস্থিতিতো আমাদের আহলে সুন্নাহ ভাইদের উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত বার্তাগুলো পাঠাচ্ছি যে,

এক.

কালামুন এবং লেবাননের সকল স্থানে আমাদের আহলে ‍সুন্নাহ ভাইয়েরা! আল্লাহর শপথ আমাদের অন্তরগুলো কখেনো প্রশান্ত হবেনা আমাদের চক্ষুগুলো কখনো ঠান্ডা হবেনা যতক্ষন পর্যন্ত আমরা আপনাদের পক্ষ হয়ে এই পাপিষ্ঠদের থেকে যুদ্ধাপরাধের প্রতিশোধ না নিবো। আব্দুল্লাহ বিন সাবা আর আবু লুলু আলমাজুসীর জারজ সন্তানদেরকে আমরা অক্ষরে অক্ষরে টের পাইয়ে দিবো যে, আহলে সুন্নাহর উপর এক ঘা তুললে কত ঘা খেতে হয়।

হে আমাদের সুন্নি ভাইরা! আপনারা দেখুন- প্রতিদিন বিভিন্ন ময়দানে তাদের মৃতদেহ গুলো কিভাবে কুকুরের মত পরে থাকে। আল্লাহ তায়ালা বলেনতোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো আল্লাহ তায়ালা তোমাদের হাতে তাদেরকে শাস্তি দিবেন, তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন, তাদের উপর তোমাদেরকে বিজয়ী করবেন, মুমিনদের অন্তরকে প্রশান্ত করবেন তোমাদের অন্তরের ক্রোধকে প্রশমিত করবেন আল্লাহ তায়ালা যাকে চান তার তাওবা কবুল করেন আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞাত প্রজ্ঞাময়

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন- তাদেরকে যেখানে পাও সেখানেই হত্যা করো এবং তাদেরকে বের করে দাও যেমন তারা তোমাদেরকে বের করে দিয়েছে।

দুই.

রুমিয়া কারাগার এবং তাগুতের অন্যান্য কারাগারে আমাদের যেসব ভাই বন্দি তাদের উদ্দেশ্যে –

আল্লাহর শপথ আমাদের অন্তরগুলো আপনাদের সাথেই আছে। ইনশাআল্লাহ! বিপদ আর অল্প ক’দিন। সামান্য সময়ের ব্যাবধানে এই বিপদের অবসান হতে পারে। সুতরাং আপনারা আল্লাহ তায়ালার উপর সুধারণা পোষণ করুন। এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না । কারণ একমাত্র কাফেররাই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হতে পারে । আল্লাহ তায়ালা আমাদের সাথে দুই কল্যানের একটির ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ তায়াল বলেন- আপনি তাদেরকে বলে দিন তোমরা আমাদের ব্যাপারে দুই কল্যাণের একটির অপেক্ষায় আছো। আর আমরা তোমাদের ব্যাপারে অপেক্ষা করছি যে, আল্লাহ তায়ালা তার পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হাতে তোমাদেরকে শাস্তি দিবেন। সুতরাং তোমরা অপেক্ষায় থাক আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম।

তিন.

হিযবুল্লাহ নামি আল্লাহর দুশমন পাপিষ্ঠ রাফেজীদের প্রতি—

হে নাপাক নরাধম রাফেজীরা! তোরা ভাবিস না তোদের সাথে আমাদের এ যুদ্ধ কোন সীমান্ত বা পাহাড়ী  ঘাটির মাঝে সীমাব্ধ থাকবে। আলহামদু লিল্লাহ আমরা এতদিনে লেবাননে তোদের সকল অবরোধ উঠিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের সাথে এমন হাজারো ভাই রয়েছেন যারা শুধু অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছেন লেবাননের অভ্যন্তরে তোদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে। হাঁ ঐ দেখ দিগন্ত থেকে তেড়ে আসছে যুদ্ধের লাভা। তোরা অপেক্ষা কর আহলে সুন্নাহর সুপ্ত ক্রোধের, যা ধেয়ে আসছে তোদের বক্ষপানে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর। তারা যেন তোমাদের মাঝে ক্রোধ দেখতে পায়। আর জেনে রাখ আল্লাহ তায়ালা মুত্তাকিদের সাথে রয়েছেন।

চার.

সর্বশেষ আহবান

হে আমাদের লেবাননের ভাইয়েরা তোমরা তোমাদের সিরিয় ভাইদের সাথে যোগ্য ভাতৃত্ব এবং উত্তম প্রতিবেশিত্বের হক আদায় করেছ। তোমরা সকল বাধা বিপত্তির মুখেও তোমাদের ভাইদের পাশে দাড়িয়েছ। সুতরাং তোমরা সামনে বাড়ো! রাফিজেদের বিরুদ্ধে সকলে এক হস্ত এবং এক বক্ষ হয়ে যাও! আজ দেখ রাফেজীরা তোমাদের কাটার জন্য হাতে ছুরি তুলে নিয়েছে তোমাদের অপেক্ষার সময় শেষ হয়ে এসেছে। এই জীবনের কোন স্বাদ নেই যখন চোখের সামনে আমাদের মা বোনদের ইজ্জত লুন্ঠন করা হয়। আমাদের দ্বীনের তাচ্ছিল্য করা হয়। হা আমাদের বর্তমান প্রজন্ম আত্মমর্যাদাশীল প্রজন্ম। তারা লাঞ্ছনা মেনে নিতে পারেনা। সামনের দিনগুলোই প্রমাণ করবে কে মর্যাদাশীল আর কে লাঞ্চনার জীবনে অভ্যস্ত।

হে আল্লাহ! আপনি আপনার দীনকে বিজয়ী করুন । আপনার আওলিয়াদের সাহায্য করুন। এবং আপনার বাহিনী দ্বারা আমাদেরকে সাহায্য করুন। নিশ্চই আপনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান।

 

 

মাআস সালাম

শাইখ আবু মালিক আশ শামী হাফিজাহুল্লাহ (জামাল হোসাইন জাইনিয়াহ)

আমিরঃ জাবহাতুন নুসরাহ (বর্তমান জাবহাতু ফাতহিশ শাম)

কালামুন শাখা

শাম আলমোকাদ্দাসাহ

 

পিডিএফ

৭৮৮ কেবি

https://www.pdf-archive.com/2016/08/23/ahlas-sunnah/

http://document.li/yZbo

http://www.mediafire.com/download/ygmvs6r45bysxpv/ahlas+sunnah.pdf

http://up.top4top.net/downloadf-235y6s82-pdf.html

ওয়ার্ড

১.৫৪ এমবি

http://up.top4top.net/downloadf-2353e8u1-docx.html

http://www.mediafire.com/download/ea1ukzdtkadu4t8/ahlas+sunna.docx

exrj4w

https://justpaste.it/xm81

https://jpst.it/MxQn

প্রকাশনা ও পরিবেশনা

প্রকাশকাল
২৩ আগস্ট ২০১৬ ইংরেজি

আপনাদের নেক দুয়ায় আমাদের ভুলবেননা!